Published : 05 Apr 2026, 11:07 PM
পঞ্চগড়ে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিদ্যুৎ সংযোগের একজন কর্মী। আজ রবিবার বিকেল পাঁচটার দিকে পঞ্চগড় পৌরসভার ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই তাঁর স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা নেসকো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে দোষীদের বিচারের দাবিতে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেন। মৃত শাহীন আলম (৩৫) তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-র পঞ্চগড় কার্যালয়ে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র থেকে জানা যায়, শাহীন ও তাঁর সহকর্মীরা বিকেলে জেলা শহরের ধাক্কামারা গোলচত্বরে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ করছিলেন। কাজ করার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
কিন্তু হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে আসায় শাহীন, যিনি মই দিয়ে খুঁটিতে উঠে কাজ করছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঝুলে পড়েন। তাঁর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহীন আলমের মৃত্যুর খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় জনতা নেসকো কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করে শাহীনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা নেসকো কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে নেসকো কার্যালয়ে যান। সেখানে শাহীন আলমের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
রাত পৌনে আটটার দিকে তাঁরা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য একটি ঘোষণা দেন। ইউএনও ফাহমিদা সুলতানা বিক্ষোভকারীদের বলেন, ‘এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সকলের জন্য দুঃখজনক। নেসকো কর্তৃপক্ষ শাহীন আলমের স্ত্রীকে এই কার্যালয়ে একটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং লাশ দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই ঘোষণা শোনার পর রাত আটটার দিকে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে যান।।
শাড়ি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ