Published : 12 Jul 2026, 04:14 PM
অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৫১ জন মানুষের জীবনহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এই বিপর্যয়ের ফলে ১০ লক্ষ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবারের সদস্যরা জলমগ্ন অবস্থায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই সাতটি জেলার মোট ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যার জলে প্লাবিত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মোট ১১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলাভিত্তিক ক্ষতির ক্ষেত্রে কক্সবাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এখনো মেলেনি। চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং অন্যান্য জেলাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। এই জেলায় ১৬টি উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং জলমগ্ন হয়েছেন, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজারেরও বেশি।
মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম জারি রয়েছে। এই সাতটি বন্যাকবলিত জেলার জন্য নগদ ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুসারে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪টি জেলার জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে শুকনো খাবার, চাল, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।।
ইউএস-বাংলার আকাশপথে নতুন দিগন্ত: ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যোগ