Published : 12 Jul 2026, 02:15 PM
কক্সবাজারের টেকনাফ অঞ্চলে টানা প্রবল বৃষ্টির কারণে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির জীবনাবসান ঘটেছে। শনিবারের দুর্ঘটনার প্রায় একদিন পর, রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই বিশাল প্রাণীর মৃত্যু হয়। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (টেকনাফ-উখিয়া) মো. মনিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ের মাটি অতিবৃষ্টির ফলে নরম হয়ে ধসে পড়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামার সময় হাতিটি প্রায় তিনশো ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা আহত প্রাণীকে দেখতে পেয়ে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করেন। এরপর বন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে এসে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেন।
মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, অতিবৃষ্টির সময় খাদ্য বা আশ্রয়ের সন্ধানে হাতিটি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছিল। দুর্ঘটনার সময় আশেপাশে অন্য কোনো হাতির পাল দেখা যায়নি, ফলে ধারণা করা হচ্ছে এটি কোনো এক পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওই এলাকায় এসে পড়েছিল। এই দুর্ঘটনায় হাতিটির মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে, যার ফলে তার দুটি পা অচল হয়ে যায় এবং পেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় গাছ ও পাথরের সঙ্গে সংঘর্ষে আঘাত আরও তীব্র হয়। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রাণটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের সম্মিলিত তত্ত্বাবধানে হাতিটির চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থাকায় প্রাণীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, ফলে ঘটনাস্থলেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালানো হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ের পাথুরে প্রকৃতির কারণে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতির মাথায়ও আঘাত লেগে থাকতে পারে।
গত এক দশকে এই পাহাড়ি অঞ্চলে পা পিছলে বা ভূমিধসের কারণে বন্য হাতির মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু এবার আঘাতের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৃত হাতিটির বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর এবং তার দৈর্ঘ্য প্রায় ত্রিশ ফুট ও উচ্চতা প্রায় দশ ফুট। শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় এলাকায় বর্তমানে অন্তত তেইশটি এশীয় হাতির বসবাস রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আনিক চৌধুরী জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটি শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ভেটেরিনারি দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মৃত প্রাণীকে বনাঞ্চলের নির্ধারিত স্থানে দাফন করা হবে।।
ইউএস-বাংলার আকাশপথে নতুন দিগন্ত: ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যোগ