Published : 13 Jul 2026, 12:14 AM
দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে এই এয়ারলাইনসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ২১টি অত্যাধুনিক ব্র্যান্ডনিউ বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। এই বিশাল সংখ্যক বিমান সরবরাহ করছে পাঁচটি আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠান। এই নতুন উড়োজাহাজগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউএস-বাংলার মুখপাত্র কামরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী ২৯ জুলাই, ইউএস-বাংলা একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যেখানে বোয়িং এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যৌথভাবে এই বহর সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। এই অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক এয়ারক্রাফট লিজিং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিমান ও পর্যটন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে পাঠানো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলগুলো আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র বা হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। এই বিমানগুলো ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। কামরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, এই সংযোজন কেবল ব্যবসায়িক প্রসারের পথ নয়, বরং দেশের বিমান চলাচল খাতে এক যুগান্তকারী বিনিয়োগ। বিশিষ্ট বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, এটি বাংলাদেশের বিমান ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি এয়ারলাইন্স এত বড় পরিসরে একইসঙ্গে বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়নি। এটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক বিশাল সাফল্য, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তার মতে, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্প, রপ্তানি এবং বিনিয়োগ আরও গতিশীল হবে।
একইসঙ্গে, এই নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বিপুল সংখ্যক পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু এবং সহায়ক জনবলের প্রয়োজন হবে, যা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক আকাশপথের একটি বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও প্রসারিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ২১টি উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী, ডিসপ্যাচার এবং অন্যান্য কারিগরি জনবলের চাহিদা আকাশছোঁয়া হবে, যা এভিয়েশন খাতে হাজারো নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের তরুণদের জন্য পাইলট ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে।।
খারাপ আবহাওয়ার জেরে স্থগিত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা বাতিল