Published : 12 Jul 2026, 08:14 PM
আয়কর, ভ্যাট এবং আমদানি শুল্ক—এই তিনটি প্রধান রাজস্ব খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারের ৫০৩,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ৮১.৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজস্বের প্রধান উৎসগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় হয়েছে ৭৬.৭ শতাংশ, ভ্যাট বা মূসক খাতে আদায় হয়েছে ৮৩.৭ শতাংশ এবং শুল্ক খাতে আদায় হয়েছে ৮৫.৩ শতাংশ।
করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শওকত আরা আখতারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, করের হার বৃদ্ধি না করে করজাল বিস্তৃত করার মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব। কর ফাঁকি রোধ এবং ন্যায্য কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্ষেত্রের কোম্পানিগুলোর বাজার অংশীদারিত্ব (মার্কেট শেয়ার) চিহ্নিত করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমরা প্রতিটি খাতে প্রতিটি কোম্পানির বাজার অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করছি এবং করের দায়বদ্ধতার সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের সম্পর্ক স্থাপন করছি। যে প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব বেশি, তাদের আনুপাতিক হারে বেশি কর দিতে হবে।' অসুবিধা ও হয়রানি কমানোর জন্য অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, 'ফ্ল্যাট রেট' করব্যবস্থা চালু করা হবে।
এই পদ্ধতিতে কর কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে কর ধার্য করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে যারা করের আওতার বাইরে আছেন, তারা তাদের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে পারবেন এবং তাদের কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে না। কর পরিশোধের পর রসিদ সংরক্ষণ করলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হবে। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো একটি বৃহত্তর কর নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে ধীরে ধীরে সকল নাগরিককে নিয়মিত করনীতির আওতায় আনা যায়।।
ইউএস-বাংলার আকাশপথে নতুন দিগন্ত: ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যোগ