Published : 04 Apr 2026, 11:09 PM
“আমার মিম গ্যাসের তাপে পুড়ে শেষ হয়ে গেল। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের বের হতে দেয়নি। সুপারভাইজার বলছিল আগুন সামান্য, নিভে যাবে, তাই ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছিল। মিম অনেক চেষ্টা করেও বের হতে পারেনি।”—কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো মিমের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন খান বুকফাটা আর্তনাদ করছিলেন। আজ শনিবার কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকাহ হাসপাতালের পাশের গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের অবস্থা এতটাই করুন ছিল যে, প্রাথমিকভাবে নারী-পুরুষ শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজন মিম আক্তার পাখি। আজ বেলা ১টা ১১ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তারা পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছেন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) মর্গ থেকে জানা যায়, পাঁচজনের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেছে।
অন্য দুজনের পরিবারের সদস্যরা এখনো যোগাযোগ করেননি। বাকি দু’টি লাশ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মিমের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, “আমার মিমের শরীরে কোনো পোড়া দাগ নেই, জামাকাপড়ও অক্ষত। মনে হচ্ছে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কারখানার ভেতরে আটকে থাকার কারণেই তারা প্রাণ হারিয়েছে।” প্রতিদিন মিম দুপুরে বাসায় ভাত খেতে আসত। আজ সোয়া একটার দিকে তার ভাত খাওয়ার কথা ছিল। ঠিক এর তিন-চার মিনিট আগে দেলোয়ার আগুন লাগার খবর পান। তিনি জানান, কারখানার ভেতরে অনেকগুলো দরজা ছিল, কিন্তু সুপারভাইজার তাদের বের হতে বাধা দেওয়ায় কেউ বের হতে পারেনি। কয়েকজন দেয়াল টপকে কোনোমতে বেরিয়ে আসে। দেলোয়ার হোসেন খান কেরানীগঞ্জের কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানার পাশে একটি বাসায় দারোয়ানের কাজ করেন। সেখানেই বাবা-মেয়ে একসঙ্গে থাকতেন। আজ সকাল সাতটার দিকে কাজে বের হওয়ার আগে দেলোয়ারকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। আগুন লাগার সময় তিনি বাসার পানির পাম্প চালু করছিলেন। তখন একজন তাকে আগুন লাগার খবর দেয়।
দেলোয়ার জানতে চান, কোথায় আগুন লেগেছে? উত্তরে বলা হয়, কারখানায়। তার বাসা থেকে কারখানাটি চার-পাঁচটি বাসার দূরে। এরপর তিনি মিমকে ফোন করেন, কিন্তু রিং বাজতেই থাকে। মিম কল ধরতে পারেনি। দেলোয়ার দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটতে যান, কিন্তু মানুষের ভিড়ে সামনে এগোতে পারেননি। তিনি বিলাপ করে বলেন, “আমার মাইয়া আর আইব না...ওরা আমার মাইয়াকে মাইরা ফালাইছে!” কারখানায় সবাই মিমকে ‘পাখি’ নামেই চিনত। তার বয়স আনুমানিক ১৭ বছর। মিমের চার বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তার স্বামী কারাগারে বন্দি। মিম তার সন্তানকে শাশুড়ির কাছে রেখে বাবার সঙ্গে এখানে থেকে চাকরি করছিল। এই কারখানায় সে তিন-চার মাস ধরে কাজ করছিল। ঈদের ছুটির পর গত রোববার কাজে যোগ দেয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এই বাবা আহাজারি করছিলেন এবং বলছিলেন, প্রতিদিন সকালে তিনি কারখানায় মেয়েকে নাস্তা দিতে যেতেন। আজ মিম হলুদ রঙের জামা পরে এসেছিল।।
শাড়ি সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ