Published : 28 Feb 2026, 05:09 AM
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত অমর একুশে বইমেলা লোকে লোকারণ্য থাকে, উৎসবমুখর পরিবেশে বইপ্রেমীরা ভিড় করে। তবে গতকালকের চিত্র ছিল ভিন্ন। সারিবদ্ধ স্টলগুলোর মাঝে অলসভাবে পড়ে থাকা ফাঁকা জায়গাগুলো যেন একরাশ বিষণ্ণতা ফুটিয়ে তুলছিল। মেলা প্রাঙ্গণে স্বচ্ছন্দভাবে হাঁটাচলার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। স্টল তৈরি এবং মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ইট বসানোর কাজ চলতেই ছিল। হাতে গোনা কয়েকজন উৎসুক মানুষ এলেও, তাদের মধ্যে বই কেনার তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। ইফতারের পর আলোঘর প্রকাশনীর স্টলের সামনে শিশুদের বই দেখছিলেন মোনালিসা আক্তার। সাথে ছিল তার দুই ভাগ্নি—দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তানহা আক্তার ও অষ্টম শ্রেণির জান্নাতুল ফেরদৌস। তারা মোহাম্মদপুর থেকে এসেছিল। মোনালিসা জানালেন, টিএসসিতে ইফতার সেরে তারা মেলায় এসেছে। তার কাছে মনে হচ্ছিল না এটি ছুটির দিনের বইমেলা। তার ভাষায়, ‘পুরো মেলাটা কেমন যেন ফাঁকা আর মনমরা’।
বেচাকেনা কেমন চলছে জানতে চাইলে আলোঘর স্টলের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বললেন, ‘উনি তো যা বললেন, তাই সত্যি। লোকই আসে না, তাহলে বেচাকেনা কেমন হবে?’ গতকাল শুক্রবার ছিল মেলার প্রথম শিশুপ্রহর। বেলা ১১টা থেকে শিশুদের জন্য মেলা শুরু হয়েছিল। এবার শিশুতোষ বইয়ের স্টলগুলো উন্মুক্ত মঞ্চের পূর্ব পাশে রাখা হয়েছে। রমজান মাসে ইফতারের পরে মেলায় তুলনামূলকভাবে কিছু বেশি মানুষ দেখা গেলেও, তা যথেষ্ট ছিল না। প্রথমা প্রকাশনে নতুন বই এসেছে দ্বিতীয় দিনে। এর মধ্যে কবি জীবনানন্দ দাশের স্ত্রী লাবণ্য দাশের জীবন অবলম্বনে মাসউদ আহমাদের উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’, মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকের গবেষণাগ্রন্থ ‘শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা’ উল্লেখযোগ্য। বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানালেন, গতকাল প্রথমার সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ইসমাইল আরমানের কিশোর অ্যাডভেঞ্চার ‘অয়ন-জিমি’ সিরিজের বই। এছাড়া মহিউদ্দিন আহমদের আহমদ ছফাকে নিয়ে লেখা ‘আমার কথা কইবে পাখি’ বইটিরও চাহিদা ছিল। এদিকে গতকাল থেকে মেলার তথ্যকেন্দ্র চালু হয়েছে। এখানে ১৮টি নতুন বইয়ের নাম জমা পড়েছে। আজ শনিবারও শিশুপ্রহর থাকবে।
শুরু হবে বেলা ১১টায়। প্রকাশকেরা আশা করছেন, আজ মেলায় লোকসমাগম বাড়বে। ইতিহাসের অনেক তথ্যের উৎস হলো প্রত্নলিপি। পুরনো দিনের নানা ঘটনা ও তথ্য খোদাই করা আছে সে যুগের পাথরের ফলকে। ভবিষ্যতের মানুষের জন্য সমকালীন ঘটনার বিবরণ, তথ্য ও বাণী লিখে রাখা হতো কঠিন পাথরের গায়ে। সে যুগের মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাচেতনা, ধর্ম ও সংস্কৃতির পরিচয় লাভের উপকরণ হিসেবে এগুলোর মূল্য অপরিসীম। শিলালিপিতে আরবি-ফারসি ভাষার ব্যবহার পৃথিবীর প্রথম যে অঞ্চলগুলোতে দেখা যায়, বাংলাদেশ তার অন্যতম। বাংলার স্থাপত্য অলংকরণেও এসব শিলালিপির গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। প্রথমা প্রকাশনের ‘শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা’ বইটিতে লেখক বাংলা অঞ্চলে প্রাপ্ত আরবি ও ফারসি ভাষায় লেখা শিলালিপির পাঠোদ্ধার ও পরিচিতির পাশাপাশি সেগুলোর ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেছেন। লেখক মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিক বঙ্গীয় শিল্পকলাচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের অতিথি অধ্যাপক। এর আগে তিনি শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামি অধ্যয়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান ছিলেন।।
seniors এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে সুখবর! ভাড়ায় ২৫% ছাড়ের ভাবনা