Published : 06 Jul 2026, 05:36 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত 'পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি' বা এআরটি (ART)-এর গুরুত্ব নিয়ে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। যদিও কিছু রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এই চুক্তিকে অসম ও দেশবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে এই চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। বুধবার (১৭ জুন) সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সাংসদ এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বক্তব্য দেন। এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শিল্পে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। এই চুক্তিটি দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিটি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, গম এবং বিমানসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ রাজস্ব হারাতে পারে এবং অধিক দামে পণ্য কিনতে হতে পারে। তারা আরও মনে করেন, এই চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলার জন্য মার্কিন অনুমতি এবং অসংখ্য শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে সতর্ক থাকতে হবে।।