Published : 05 Jul 2026, 02:02 AM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর জল সংরক্ষণের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক দিকগুলো বিভিন্ন স্তরে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই তথ্য তিনি বুধবার (১৭ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রদান করেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না, তবুও তাঁর নির্ধারিত প্রশ্নের উত্তর সংসদে পেশ করা হয়। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জানতে চান, তিস্তা নদীবেষ্টিত এই অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন, নদী ভাঙন নিবারণ এবং তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সেতু বা পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো বিশেষ 'সমন্বিত মহাপরিকল্পনা' গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে কি না।
এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেন যে, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য তিস্তা নদী অপরিহার্য। উজানে বাঁধ এবং অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং কৃষি কাজকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা তীরবর্তী পাঁচটি জেলা (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট)-এ নদীভাঙন মোকাবিলার জন্য বিগত ও বর্তমান অর্থবছরে মোট ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলছে, যা এই মাসেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
বিশেষত রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশে প্রশমিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তারিত সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার অধীনে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, বাঁধের ওপর রাস্তা তৈরি, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত, এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।।
গাজীপুরে বন্যপ্রাণী চোরাচালান চক্রের পর্দা ফাঁস: বাবা-ছেলে ধরা, ১৮টি দেশীয় পাখির জীবন বাঁচানো হলো