Published : 02 Jul 2026, 08:15 AM
দিল্লি বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার ঘটনাকে 'হয়রানিমূলক' আখ্যা দিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসার বিষয়টি 'তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ' হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। জাহেদ উর রহমান জানান, দিল্লি সফরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অন্তত দু'দিন আগেই ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল। তা সত্ত্বেও গত রোববার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং শুরুতে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরে তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, 'আমি সেখানে একজন সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে যাইনি। আমি এই সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আমার কাছে মনে হলো একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন। এই কারণেই আমি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
' জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, 'ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আমার প্রবেশ এবং আমার নিয়মিত কার্যকলাপের অংশগ্রহণের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি তা করিনি।' তাঁর মতে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি 'স্বাক্ষর' রেখে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টির ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তিনি মনে করেন, একটি বার্তা দেওয়া দরকার যে এই সরকার শেখ হাসিনার সরকার নয় এবং এটি জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। ভবিষ্যতে ভারত সফরে যেতে আগ্রহী কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নিশ্চয়ই যাব। আমি স্পষ্ট করে দিচ্ছি, যদি যথাযথ আমন্ত্রণ পাই, আমি অবশ্যই যাব। আমি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই, যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।' তিনি আরও বলেন, 'ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আলোচনা করলে কারো কারো মনে হয় আমি দেশ বিক্রি করে দিচ্ছি। এই সরকার কখনোই ভারতের সঙ্গে এমন সম্পর্ক রাখবে না।
সবার আগে বাংলাদেশ বলছি আমরা। তাই আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি করার সুযোগ চাই।' ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিমানবন্দরের স্ক্রিনিংয়ের সময় জাহেদ উর রহমানের নাম একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) ছিল, যার ফলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বিলম্বের সম্মুখীন হতে হয়। পরে সেদিন রাতেই তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে নয়াদিল্লি থেকে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা হন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা গতকাল সোমবার সকালে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কলম্বো থেকে ঢাকায় ফেরেন। একই দিন বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এই ঘটনাকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত' আখ্যা দিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।।
দিল্লির বিমানবন্দরে অভিজ্ঞতা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার চোখে এক 'তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ'