Published : 23 Jan 2026, 09:06 AM
বগুড়ার ঐতিহ্যপূর্ণ সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনের চিত্র উদ্বেগজনক। রেললাইনের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো শুধু দৃষ্টিকটু নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেল বিভাগের জমিতে স্থায়ী দোকানপাট তৈরি হচ্ছে, আর কামারগাড়ি রেলগেট-সংলগ্ন জলাধারটি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নের নামে অথবা ব্যক্তিগত লাভের আশায় এই যে জমি দখল, তা আইন violation-এর পাশাপাশি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের ফটকের সামনেই রেললাইনের পাশে দোকানপাট হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে। একসময় এই জলাধারটি কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত এবং প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দেয়, কিন্তু এখন সেটিও কৌশলে ভরাট করা হচ্ছে। একটি সুপরিচিত কলেজের সামনে কীভাবে রেললাইনের মতো বিপজ্জনক স্থানে একের পর এক রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট গড়ে উঠছে, তা বোধগম্য নয়।
এখানে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেখানে বলছে, রেললাইন থেকে ২০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা অবৈধ এবং তারা কাউকে ইজারা দেয়নি, সেখানে দখলদাররা দাবি করছে, তারা রেলওয়ে থেকে জায়গা লিজ নিয়েছে। এমনকি পৌরসভার যাত্রীছাউনি দখল করেও দোকানঘর বানানোর সাহস দেখাচ্ছে তারা। প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন? আমাদের দেশে এমন ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু কি এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত থেকে রেহাই নেই? শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের অজুহাতে বা বেকারত্ব দূর করার কথা বলে রেললাইনের পাশে দোকান খোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের ধারে কফিশপ বা বিরিয়ানির দোকান চালানো যেমন বিপজ্জনক, তেমনই এটি ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, পরিবেশ আইনকে উপেক্ষা করে জলাধার ভরাট করা একটি গুরুতর অপরাধ।
পরিবেশ অধিদপ্তর ডিসিকে চিঠি দিলেও দখলদাররা কাজ বন্ধ না করায় প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়। আমরা মনে করি, রেল বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে যৌথ অভিযান চালিয়ে কলেজের সামনের এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা। যদি লিজ দেওয়ার নামে কোনো জালিয়াতি হয়ে থাকে, তবে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষা ও পরিবেশের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বগুড়ার এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠের সামনের পরিবেশকে দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। দখলদারদের রাজনৈতিক পরিচয় যেন উচ্ছেদের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, এটাই প্রত্যাশা।।