Published : 18 Jan 2026, 09:07 AM
একটি নয়তলা হাসপাতাল তৈরি করতে আট বছর লেগে যাওয়া কি স্বাভাবিক? বান্দরবান সদর হাসপাতালের ১০০ শয্যাকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি যেন কচ্ছপের গতিতে চলছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৬ সাল পেরিয়ে গেলেও এখনো সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের কাজ বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্য পাওয়ার অধিকারকে উপেক্ষা করার শামিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এই ভবনের কাঠামো, দেয়াল, রং এবং বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে। তবে লিফট বসানোসহ কিছু কাজ এখনো বাকি। অথচ, দুইবার প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। গত জুনে বর্ধিত সময়সীমা শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ হস্তান্তর করতে পারেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল অ্যাসোসিয়েট’ এক মাসের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের শঙ্কিত করে।
বান্দরবানের মতো দুর্গম পার্বত্য জেলায় উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের। এখানে আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট), সিসিইউ (করোনারি কেয়ার ইউনিট) অথবা ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি সেবা পাওয়া যায় না। ফলে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। এই যাত্রাপথে অনেকের প্রাণহানিও ঘটে। নতুন ভবনটি চালু হলে আইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিটের সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু সাত বছরের দীর্ঘসূত্রিতায় সেই সম্ভাবনা এখনো কাগজের পরিকল্পনার মধ্যেই আটকে আছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁরা ১০০ শয্যার হাসপাতালটি মাত্র ৫০ জনবলের মাধ্যমে চালাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট যে, শুধু অবকাঠামো হস্তান্তর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর সাথে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও প্রয়োজন।
জেলা সিভিল সার্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবন হস্তান্তরের পর তাঁরা সরঞ্জামের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠাবেন। অর্থাৎ, ভবন বুঝে পাওয়ার পরও আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পেতে আরও কত সময় লাগবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক একটি বিষয়ে এই ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেন বারবার সময়সীমা বাড়ানোর পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুততম সময়ে ভবনটি বুঝে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অগ্রিম প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে ভবন পাওয়ার সাথে সাথেই জনবল ও যন্ত্রপাতি নিয়োগ করা যায়। বান্দরবানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আমরা আর কোনো অবহেলা দেখতে চাই না।।