Published : 01 May 2026, 05:09 PM
সাজিদ হোসেনের বয়স всего ১৩ বছর। এই বয়সে তার থাকার কথা ছিল সবুজ মাঠের ধারে, হাতে ছিল খাতা-কলম আর কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। বন্ধুদের সাথে হেসে-খেলে দিন কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু বিধাতার লিখন ভিন্ন। সংসারের কঠিন বাস্তবতায় আজ তাকে অটোরিকশার হাতল ধরে পথ চলতে হচ্ছে। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিনের মতো今日も সে ছুটে চলেছে। আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদার কথা যখন সবাই বলছে, তখনই দেশের অজস্র প্রান্তে অসংখ্য শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিজেদের জীবন বাজি রাখছে। সাজিদের জীবনও সেই কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের এই কিশোর চার বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছে। এরপর বাবা আবদুল বাতেন হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ভিটেমাটি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। এখন কামালখামার বাজারের একটি ভাড়া ঘরই তাদের ঠিকানা। সেখানেই তারা থাকে, এবং সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতিদিনের জীবনসংগ্রাম।
সংসার চালানো থেকে শুরু করে বাবার ওষুধের খরচ—সব দায়িত্ব এখন সাজিদের কাঁধে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে।শিশু সাজিদ হোসেন বলে, ‘অটো চালাইতে আমার ভালো লাগে না। বন্ধুরা যখন স্কুলে যায়, তখন আমি রাস্তায় গাড়ি চালাই। খুব খারাপ লাগে, কিন্তু পেটের দায়ে তো কিছু করার নেই। বাবার ওষুধ কিনতে হয়, বাসা ভাড়া দিতে হয়—অনেক খরচ।’সাজিদের বাবা আবদুল বাতেন বলেন, ‘হৃদরোগের কারণে আমি আর কাজ করতে পারি না। যা জমি ছিল, চিকিৎসার জন্য সব বিক্রি করে দিয়েছি। পরে বাড়িঘর বিক্রি করে এই অটো কিনেছি। আমি নিজে চালাতে পারি না, তাই ছেলেই চালায়। আমরা অটো চার্জ দেওয়ার ঘরেই থাকি।’ শুধু সাজিদ নয়, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এমন আরও অনেক শিশু আছে, যারা দারিদ্র্যের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য হচ্ছে। জেলা শহরের লেদ কারখানাগুলোতেও শিশু শ্রমিকদের দেখা যায়।শাপলা চত্বরের কাছে একটি লেদ কারখানায় কাজ করে আল আমিন ও সাব্বির রহমান।
সাব্বির জানায়, তার বাবা সেলুনে কাজ করেন। পরিবারের অভাবের কারণে পঞ্চম শ্রেণির পর সে আর পড়াশোনা করতে পারেনি। এখন গ্যাস ঝালাইয়ের মতো বিপজ্জনক কাজ করে সে। ‘অনেক সময় আগুনের ফুলকি চোখে লাগে, হাতে ছ্যাঁকা লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। অভাব তো!’ এই কথা বলেই সাব্বির অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, দারিদ্র্যই শিশুশ্রম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ)-এর কুড়িগ্রাম জেলার শিশু অধিকারকর্মী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘গত ১০ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জেলায় শিশুশ্রম বাড়ছে। শিশুদের এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে হলে তাদের পরিবারগুলোর জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।’জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজাদুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামে বড় শিল্পকারখানা কম থাকায় শিশুশ্রমের হার তুলনামূলক কম, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের সরিয়ে আনা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লেদ কারখানা ও ঝালাইয়ের মতো কাজে যেসব শিশুকে দেখা যায়, তাদের পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনলে শিশুশ্রম কমানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে শিশুশ্রম কমাতে সাহায্য করবে।।
রামপুরায় মাদ্রাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: গ্রেপ্তার মূল সন্দেহভাজন