Published : 05 Aug 2026, 05:16 AM
জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং শিশুদের সুশৃঙ্খল প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং পরিবার—সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞগণ। মঙ্গলবার রাজধানীতে ‘শৈশবের জন্য করণীয়: শৈশব ও ধরিত্রীকে সুরক্ষিত রাখা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি সংলাপে এই বার্তা দেওয়া হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য পৃথিবীকেও সুরক্ষিত রাখা অপরিহার্য। এই আলোচনায় বাংলাদেশ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আরনেক ও সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন সহযোগী হিসেবে অংশ নেয়। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের প্রাথমিক বিকাশে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেনের সহসভাপতি মাহমুদা আক্তার, যিনি উল্লেখ করেন যে শিশুর জন্মের পর প্রথম এক হাজার দিন তার শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, যত্ন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুও বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। তাঁর মতে, আজকের শিশুর প্রতি যত্নশীল আচরণই আগামীর নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষা এবং মানসিক বিকাশের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি থাকা আবশ্যক। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিশুদের ঝুঁকি বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে শিশু-কেন্দ্রিক জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। সকল পক্ষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে শিশুদের কল্যাণ ও পরিবেশ সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিশুদের অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।।
হরমুজ প্রণালী কবে খুলবে? ট্রাম্পের কড়া বার্তা: না হলে ইরানের মুখে চরম আঘাত