Published : 04 Jul 2026, 05:13 PM
ময়মনসিংহ বন্ধুসভার উদ্যোগে সাহিত্য ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে লেখক আহমদ ছফার কালজয়ী ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস 'গাভী বিত্তান্ত'-এর গভীরে প্রবেশ করা হয়। ১৪ জুন বিকেলে প্রথম আলো ময়মনসিংহ অফিসে এই পাঠচক্রের আসর বসে। পাঠ আলোচনায় পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই উপন্যাসের মূল ভাবনা আজও আমাদের সমাজব্যবস্থা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমাজের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। উপন্যাসটি তৎকালীন স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চিত্র অবলম্বনে রচিত, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের মূল ভিত্তিগুলো সূক্ষ্মভাবে উন্মোচিত হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।
তিনি এক সাধারণ ও সরল মনের মানুষ, যার চারপাশে থাকা মানুষজন তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতিকে ব্যবহার করে। তিনি এক সহকর্মীর মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে উপাচার্য (ভিসি) নির্বাচিত হন। ক্ষমতার শীর্ষে আসার পর তাঁর চরিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। উপাচার্য হওয়ার পর আবু জুনায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের বিনিময়ে তাঁর চাচাশ্বশুরের কাছ থেকে একটি বিরল প্রজাতির গরু উপহার পান এবং এক সহকর্মীর কাছ থেকে অনেক পাখিও পান। এই গরুটি পাওয়ার পর তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন, যদিও ছোটবেলা থেকেই তাঁর গরু পালনের প্রতি একটি শখ ছিল যা পারিপার্শ্বিকতার কারণে পূরণ হয়নি। যখন আবু জুনায়েদ গাভী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি, অনিয়ম এবং অন্যান্য সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
অন্যদিকে, আবু জুনায়েদের স্ত্রী নুরুন্নাহার বানু মনে করতেন, গাভী আসার পর থেকে তাঁর সংসারে অশান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আবু জুনায়েদ আগের মতো ছিলেন না। নুরুন্নাহারের ক্ষোভের বশে তিনি গাভির খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেন, যার ফলস্বরূপ পশুটি মারা যায়। এই ঘটনার পর আবু জুনায়েদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সমগ্র বিশ্বের একান্নটি দেশে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান এবং মোটা অঙ্কের সম্মাননাও লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নোংরা রাজনীতি, অনিয়ম ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের এক শক্তিশালী দলিল হিসেবে গণ্য হয়। পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মেহেদী হাসান, বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম, ফোয়াদ হাসান, তুশরাত জাহান, তাবাসসুম প্রাপ্তি ও সাইমা প্রমি।।
ময়মনসিংহ রেলপথে ঘন ঘন বিপর্যয়: ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল!