Published : 25 Aug 2026, 09:16 AM
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মূল্যবান গাছ কাটার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের কারণ। পরিবেশ ও প্রকৃতির ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের এই সময়ে প্রায় চার হাজারেরও বেশি গাছ উপড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। ইতিমধ্যেই এক হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে। যদি অবিলম্বে এই বৃক্ষনিধনের প্রক্রিয়া বন্ধ না করা হয়, তবে স্থানীয় পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক অপূরণীয় আঘাত আসবে। দুই বছর আগেও এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিবাদে বাতিল করতে হয়েছিল। এবার সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাত এবং সড়ক সম্প্রসারণের যুক্তি দিয়ে আবারও গাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু যে গাছগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি ছিল, সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে কেন অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেল—এই প্রশ্নটি বড়।
বন বিভাগ দাবি করছে, সামাজিক বনায়নের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং রাস্তা সম্প্রসারণ হবে। এরপর আবার নতুন করে গাছ লাগানো হবে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ। কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়া মানে কি পরিণত গাছ উপড়ে ফেলা বাধ্যতামূলক? মেয়াদ বাড়ানো বা উপকারভোগীদের সঙ্গে নতুন কোনো বন্দোবস্তের সুযোগ কি আদৌ নেই? সড়ক সম্প্রসারণের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং এর জন্য কতগুলি গাছ কাটা অপরিহার্য, তা কি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়েছে? স্বচ্ছতার অভাবও প্রকট। সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা এই গাছ কাটার বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য দিতে অপারগ বলে জানিয়েছেন। সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীরাও অর্থ প্রাপ্তি বা গাছ কাটার বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে প্রশ্ন ওঠে—কার স্বার্থে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় ছাড়া এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নৈতিক ও প্রশাসনিক বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। সুনামগঞ্জ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হাওরাঞ্চল।
জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। এমন অঞ্চলে হাজার হাজার পরিণত গাছ কেটে ফেলা কেবল কাঠ আহরণের বিষয় নয়। এই গাছগুলো জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, দূষণ কমায়, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পথচারীদের আশ্রয় দেয়। নতুন চারা রোপণের মাধ্যমে পরিণত গাছের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই করা যেতে পারে, কিন্তু উন্নয়ন ও বৃক্ষনিধনের মধ্যে কোনো সমঝোতা করা যাবে না। বিকল্প নকশা তৈরি, রাস্তার এক পাশ দিয়ে সম্প্রসারণ অথবা গাছের অবস্থান অনুসারে নকশা পরিবর্তনের সম্ভাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা আবশ্যক। পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা এবং স্বচ্ছ গণশুনানি এখন সময়ের দাবি।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লক্ষ ডলারের বেশি: ভারতীয় কর্মীদের জন্য কি চরম বিপদ?