Published : 25 Aug 2026, 03:16 AM
প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে মোহাম্মদপুর এলাকার চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দারা চরম দুর্দশার শিকার। বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কেনার পরেও তারা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের (লোডশেডিং) শিকার হচ্ছেন, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তারা স্বচ্ছন্দ্যে রান্না করতে পারছেন না। সোমবার দুপুরে এই বিষয়ে কথা বলেন প্রতিবেদকের সঙ্গে কাজী তাহমিদা আফরোজ নামে এক গৃহিণী। তিনি জানান, প্রায় এক মাস ধরে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নেই। প্রথম দিকে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস আসলেও এখন একটানা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আফরোজ আরও বলেন, 'প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা গ্যাস থাকলেও কোনোমতে কাজ চালানো সম্ভব হয়; কিন্তু কখন কী হবে, কোনো ভরসা নেই। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে আমরা ভুগছি এবং আমাদের রান্না সম্পূর্ণ বন্ধ।' মোহাম্মদপুরের ওই হাউজিংয়ের আরেক বাসিন্দা মোস্তফা নাজমুল হাসান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা সবাই কষ্টের মধ্যে আছি।
যদি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রিপেইড মিটারের বিল বা যারা লাইনের গ্যাস ব্যবহার করে তাদের বিল বাদ দেওয়া উচিত। কোথায় থাকবে আর কোথায় থাকবে না—এই অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া অসম্ভব।' গ্যাস সংকটের প্রতিক্রিয়ায় অনেকে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নতুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা রাসেল দাস জানান, 'গ্যাসের অভাব মেটানোর জন্য আমরা বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি; কিন্তু গতকাল রান্না করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের সমস্যার আরও সৃষ্টি হলো। চাকরি করে বাড়ি ফিরে এই ধরনের ঝামেলা আমাদের আরও বিপদে ফেলছে।' রাসেল দাসের মতো একই অভিযোগ করেন মোস্তফা নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, 'বৈদ্যুতিক চুলায় রান্নার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে আমার পুরো খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ তার আর্থিক দায়ভার আমাকেই নিতে হচ্ছে। আমার আয় বাড়ছে না, কিন্তু খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।' তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের কাছে আবেদন জানান, 'তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি দেওয়া প্রয়োজন।
এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দয়া করে আমাদের দিকে নজর দিন এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করুন, যাতে আমরা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারি।' এই সমস্যাটি কেবল মোহাম্মদপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর কলাবাগান, কাফরুল, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার, বাড্ডা সহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানে সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস আসে, কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় দিনভর রান্নার ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে তারা যেন দুর্ভোগ পোহানোর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লক্ষ ডলারের বেশি: ভারতীয় কর্মীদের জন্য কি চরম বিপদ?