Published : 18 Aug 2026, 06:17 AM
ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ জেন-জিকে গো-রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। এই বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ হাজার 'গো মিত্র' বা গোরক্ষককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল গো-রক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে গ্রামীণ অর্থনীতি, প্রাকৃতিক কৃষি, সবুজ শক্তি, নারী ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক স্বনির্ভর মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। রোববার (১৬ আগস্ট) উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে সরকার এবার তরুণদের গো-রক্ষার কাজে সরাসরি যুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে গো-সেবা, গো-রক্ষা এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে। প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপে অভিজ্ঞ 'মাস্টার ট্রেইনার' দল তৈরি করা হবে, যারা পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
বিশেষত যারা ইতিমধ্যেই গো-রক্ষা ও গো-সেবায় আগ্রহী, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো এই উদ্যোগের মাধ্যমে গো-রক্ষাকে প্রাকৃতিক চাষাবাদ, নারী ক্ষমতায়ন, পরিবেশবান্ধব শক্তি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে একীভূত করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও প্রাণবন্ত করা। উত্তরপ্রদেশের 'গো-সেবা আয়োগ'-এর চেয়ারম্যান শ্যাম বিহারী গুপ্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গো-রক্ষাকে রাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো গো-শালাগুলোকে কেবল চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে না রেখে সেগুলোকে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে এখন গো-শালার সঙ্গে গোবর, গো-মূত্রভিত্তিক অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব জৈব চাষ এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মতো আধুনিক বাণিজ্য উদ্যোগগুলিকে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে শিশু ও যুবকদের যুক্ত করার ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হবে। গ্রামের মাঠে 'ক্যাশ-ক্যাম্প'-এর মাধ্যমে তরুণদের দেশি জাতের গবাদি পশু পালন, গো-সেবা, আধুনিক প্রাকৃতিক চাষাবাদ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে পশুর অপরিহার্য অবদান সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম গো-রক্ষার ধর্মীয় দিকটির পাশাপাশি এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকার গ্রামগঞ্জে প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে দক্ষ মাস্টার ট্রেইনাররা পর্যায়ক্রমে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেবেন। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে মালিকানাহীন গবাদি পশুর সুরক্ষার জন্য একটি বড় কার্যক্রম চলছে। রাজ্যজুড়ে ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি সরকারি গো-শালা গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় বারো লক্ষেরও বেশি পশুর লালন-পালন ও বাসস্থান রয়েছে। এই প্রাণীদের যত্নের জন্য রাজ্য সরকার তাদের দৈনিক বাজেট বৃদ্ধি করেছে; পূর্বে প্রতি পশুর খাবারের জন্য দৈনিক ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা এখন বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ গো-শালার নজরদারিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।।