Published : 15 Aug 2026, 05:17 AM
এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরীক্ষার ক্ষেত্র। চূড়ান্ত সফলতা হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং চিরন্তন জান্নাতের অধিকারী হওয়া। বিশ্বাসীরা প্রতিনিয়ত সৎকর্মের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে এই সুউচ্চ পথের সন্ধান করে চলেছেন। প্রতিটি মুমিনের অন্তরেই জান্নাতের স্বপ্ন বাস করে। মহানবী (সা.) আমাদের এমন এক অসাধারণ ও প্রজ্ঞাময় দুআ শিক্ষা দিয়েছেন, যা আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে উচ্চারণ করলে জান্নাত লাভের পথ প্রশস্ত হয়। এর অর্থ ও তাৎপর্য গভীর। মুখে উচ্চারণের সহজতার চেয়েও হৃদয়ে ধারণ করা এই দোয়ার শান্তি অনেক বেশি। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে, “রজীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রসূলান”—তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯) এই দোয়ার অর্থ হলো: আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার রাসূল হিসেবে গ্রহণ করেছি।
তবে এর পেছনের সুসংবাদটি কত বিশাল! মহানবী (সা.) এই মহামূল্যবান ওয়াদা লাভের জন্য বিপুল ধন-সম্পদ, উচ্চ সামাজিক মর্যাদা বা শারীরিক কঠিন সাধনার কোনো শর্ত রাখেননি। তিনি কেবল অন্তরের একনিষ্ঠতা ও পরম সন্তুষ্টির দাবি করেছেন। এই ছোট্ট দোয়ার মধ্যেই ইসলামের জীবনদর্শনের তিনটি মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে। সংক্ষেপে এর বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন এই দুআ এত শক্তিশালী: ১. আল্লাহকে রব মানা: এর অর্থ হলো—সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত, ফয়সালা, হেদায়েত এবং আমাদের জীবনের তাকদিরে সম্পূর্ণ আস্থা রাখা। জীবনে সুখ আসুক বা কঠিন পরীক্ষা আসুক, স্রষ্টার ওপর অভিযোগ না করে তাঁর করুণার ওপর ভরসা রাখাই হলো তাঁকে ‘রব’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আসল প্রমাণ। ২. ইসলামকে জীবনবিধান গ্রহণ করা: ইসলাম কেবল কিছু সামাজিক রীতিনীতি নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা সানন্দে মেনে নেওয়া এবং এর বিধান অনুসরণ করার মধ্যেই আত্মিক প্রশান্তি নিহিত থাকে, যা হলো ‘ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পাওয়ার সন্তুষ্টি’। ৩. নবীজিকে রাসুল জানা: তাঁর দেখানো পথই যে জীবন চলার শ্রেষ্ঠ ও একমাত্র মাধ্যম—তা বিশ্বাস করা। তাঁর সুন্নাহ বা আদর্শকে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠা করে আনন্দ লাভ করাই এই মূল্যবান দোয়ার মূল কথা।
এই দুআটি নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তে পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন আজান শোনার পর এই বাক্য পাঠ করলে গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৬)। এছাড়াও সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের মধ্যেও এটি পাঠের অপার ফজিলত রয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই কথা বলবে, কেয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা আল্লাহর ওপর দায়িত্ব হয়ে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭২) বিশেষ করে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং সন্ধ্যায় কাজ শেষে তিনবার এই দুআ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। শেষ রাতে বা আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে, তখনো এটি পাঠ করা উচিত।।
বেলজিয়ামে সংস্কারের সময় দেয়াল থেকে বেরিয়ে এলো ৯ কোটি ইউরোর গুপ্তধন, শ্রমিকদের মুখে বিস্ময়