Published : 24 Jul 2026, 08:15 AM
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখে না। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, 'একটি চিঠির নিছক ভিত্তিতে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আমার মনে হয় না।' তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত হলে একজন সংসদ সদস্য তার আসন হারাবেন কিনা, তা এখনও একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিষয়। গতকাল জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। দলটি এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর 'নৈতিক স্খলনের' অভিযোগ এনেছিল। তবে নির্বাচন কমিশনার জানান, 'জামায়াতে ইসলামীর কাছ থেকে কোনো চিঠি এলে কমিশন প্রথমে তার বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখবে।
এরপর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা বিবেচনা করা হবে।' তিনি আরও বলেন, 'যদি কোনো সংসদ সদস্য সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন, তবে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে থাকে। কিন্তু সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যদি কোনো সংসদ সদস্যের যোগ্যতা নিয়ে বিরোধ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসে, তবে কমিশন যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।' অন্যদিকে, যদি কোনো সংসদ সদস্য নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তা নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত হবে। 'নৈতিক স্খলনের অভিযোগ' প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জোর দিয়ে বলেন, 'কোনো ব্যক্তির নৈতিক স্খলনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব উদ্যোগে আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই।' তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কেবল নৈতিক স্খলনের অভিযোগ থাকলেই তা সংবিধান অনুযায়ী অযোগ্যতার কারণ হয় না। যদি কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলন সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে তা অযোগ্যতার কারণ হতে পারে।
অন্যথায় নির্বাচন কমিশনের স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপের সুযোগ নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি (ক) সেই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তিনি তার সংসদীয় আসন শূন্য করবেন। এছাড়াও, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হলেও একজন সংসদ সদস্য তার পদ হারাতে পারেন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার সমস্ত মাপকাঠি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে। বিশেষত, ৬৬(১)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা থাকার অযোগ্য বলে গণ্য হবেন, যদি না কারামুক্তির পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছে।।
ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে সিআইএ প্রধানের সঙ্গে মোসাদের নতুন পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা