Published : 21 Jul 2026, 10:13 AM
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা দশম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। হরমুজ প্রণালির সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিরিক, বন্দর আব্বাস, বন্দর লেঙ্গেহ, কেশম দ্বীপ, চাবাহার, কোনারাক ও শিরাজে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসমৃদ্ধ বুশেহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য ইরানকে এর মূল্য দিতে হবে। তারা আরও স্পষ্ট করে বলেছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে, যদিও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালির 'অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ' দিয়ে চলাচলের সময় বিস্ফোরণের পর দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে মারাত্মক আগুন লেগেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারী দল জাহাজ দুটির নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে। আইআরজিসি শিপিং কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর 'ভুয়া তথ্য' বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলতে থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং এই পথ দিয়ে কোনো তেল, গ্যাস বা রাসায়নিক সার রপ্তানি করা হবে না। এছাড়াও, আইআরজিসি দাবি করেছে যে বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার এবং আল-রিফা এলাকায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতে চালানো পৃথক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার রাডার, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট গ্রহণ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে আঘাত হানা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। আরও জানানো হয়েছে, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।।
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নৌ অবরোধের ঘোষণা: বিশ্ব জ্বালানি সংকটের নতুন আশঙ্কা