Published : 19 Jul 2026, 06:13 PM
সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-হাদাথ একটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ আক্রমণের শিকার হন মুজতবার পিতা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর মুজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ কেবল কিছু লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
আল-হাদাথের মতে, মুজতবা খামেনির নামে প্রকাশিত বার্তাগুলির কোনোটিই তিনি নিজে লিখেননি; বরং এই বার্তাগুলি লিখছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি এবং বাহিনীর অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ইসরায়েলি সূত্র আরও জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন এক চরম সীমায় পৌঁছেছে। এই গভীর বিভেদ আইআরজিসির অস্তিত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই সূত্র আরও দাবি করে যে, তেহরান ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ করলেও ওয়াশিংটন চায় না ইসরায়েল কোনো পাল্টা আঘাত হানুক। মুজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার কারণে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলি দীর্ঘদিন ধরে অনুমান করছে যে যুদ্ধের মধ্যেই তেহরানের ক্ষমতাসীনদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং অপেক্ষাকৃত বাস্তববাদী প্রশাসন দুটি ভিন্ন শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ১৪ দফা কূটনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে কট্টরপন্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের অভিযোগ, আমেরিকার আক্রমণের শিকার সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে সরকার কার্যত আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির স্পষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী।।