Published : 22 Jul 2026, 06:14 AM
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এ প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়মের প্রতিবাদে মুম্বাইয়ে যে বিক্ষোভে অংশ নেন শত শত তরুণ-তরুণীর, তাদের ওপর পুলিশ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়েছে। গত সোমবারের বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু ব্যক্তিকে আটক ও পরে মুক্তি দিলেও, মঙ্গলবার ভোররাত থেকে তাদের ফোনে হাজিরার এই নির্দেশ আসতে শুরু করে। ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এটি তরুণদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত কৌশল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩৫(৩) ধারার অধীনে এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যে অপরাধের শাস্তি সাত বছরের কম, সেক্ষেত্রে সরাসরি গ্রেপ্তার না করে অভিযুক্তকে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, গত সোমবার মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে নিট পরীক্ষার ত্রুটির প্রতিবাদে এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অন্তত সাতটি এফআইআর দায়ের করেছে, যেখানে তিনশোরও বেশি মানুষের নাম রয়েছে। শিবাজি পার্কের বাইরে বিক্ষোভের জন্য আরও ৬০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
মোট অভিযুক্তের সংখ্যা প্রায় ৯০০-এর কাছাকাছি। শিবাজি পার্ক থানার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিএনএসএস-এর বিধান মেনে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্ত মুম্বাইয়ের এক আইন বিভাগের ছাত্রী শ্রেয়া সুব্রমানিয়াম জানান, মঙ্গলবার রাত ২টা ৪৫ মিনিটে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে, যেখানে তাকে শিবাজি পার্ক থানায় হাজির হতে বলা হয়। তিনি বলেন, 'সোমবার বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় প্রতিবাদ করায় আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমরা ভাবিনি বিষয়টি এতটা বিস্তৃত হবে। একজন আইন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারলেও, সাধারণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় মধ্যরাতে পুলিশের নোটিশ পাওয়া অত্যন্ত ভীতিকর অভিজ্ঞতা।' শ্রেয়া আরও যোগ করেন, 'মেডিকেল একটি এমন পেশা যেখানে মেধার সঙ্গে কোনো আপস করা চলে না। যদি আমরা আজ এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন না তুলি, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়ও একই ভুল পুনরাবৃত্তি হবে।
' ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি, এত বড় পরিসরে সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের নোটিশ পাঠানোর ঘটনা বিরল। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এআইএসএফ) আমির কাজি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র মাহিম থানা থেকেই একশোর বেশি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'সাধারণত পুলিশ বিক্ষোভের আয়োজক বা সক্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু এবার সাধারণ অংশগ্রহণকারীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে মূলত তরুণদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য।' এই পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একদল আইনজীবী, যারা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন, তারা 'মুম্বাই অ্যাগেইনস্ট সাপ্রেশন অফ স্টুডেন্টস' (এমএএসএস) নামক ছাত্র মোর্চা পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করে, এটি শিক্ষার্থীদের ভিন্নমত দমনের জন্য আইনের চরম অপব্যবহার।।
ইরানের দাবি: রাতভর মার্কিন হামলা; কুয়েত-বাহরাইনে সামরিক স্থাপনা ও রাডার লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত