Published : 23 Jul 2026, 04:12 AM
গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিচার কার্যক্রম চলাকালীন এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষিপ্ত হয়ে এজলাস থেকে একটি পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন, যার ফলে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী মারাত্মকভাবে আহত হন। এই ঘটনাটি ঘটে আজ বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিচার চলাকালীন এজলাসে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তিনি ক্ষোভে ফেটে এজলাস থেকে পেপারওয়েট নিক্ষেপ করেন।
সেটি সরাসরি শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহার মাথায় আঘাত করে, ফলে তিনি রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আহত হন। পরে উপস্থিত সকলে তাকে দ্রুত গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। আদালতের অভ্যন্তরে এমন অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ আইনজীবীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে 'অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন' বলে অভিহিত করেছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী খাদিজা খানম লিপি জানান, 'আমি যখন শুনানির জন্য কক্ষে ছিলাম, তখন কিছু লোক উচ্চস্বরে কথা বলছিল। বিচারক সুজন মিয়া সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন এবং তা সরাসরি আমাদের শিক্ষানবিশ আইনজীবীর কপালে এসে আঘাত করে।
বিচারকের এই ধরনের আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।' অ্যাডভোকেট সোহাগ সমাজদার আরও বলেন, 'তিনি আমাদের সিনিয়র আইনজীবীদের প্রতিও অতীতে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, কিন্তু তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আজ বিচারকের এই হিংসাত্মক কাণ্ডে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হলেন।' সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম নিশ্চিত করেছেন যে বিষয়টি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে।।