Published : 23 Jul 2026, 12:14 AM
সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পর এবার গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই পদক্ষেপের কারণ হলো, সংগঠনের পক্ষ থেকে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ধারা ১২(১) এবং সংবিধানের ৬৬ ধারার আলোকে নির্বাচন কমিশনে এই আবেদন করা হয়েছে, যাতে তার সংসদ সদস্যের পদ বাতিল করা যায়। আরপিও ১৯৭২-এর ১২(১) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হলে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার শর্ত পূরণ করতে না পারলে তার সংসদ সদস্যের মর্যাদা থাকে না। নাজিবুর রহমান আরও বলেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তিনি আর কোনো দলীয় প্রার্থী নন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর যোগ্যতাও তাঁর নেই।
ফলস্বরূপ, তিনি সংসদ সদস্যের পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে কোনো চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, পূর্বে এই ধরনের দুটি ঘটনা ঘটেছিল। যেহেতু দলটি সরাসরি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে, তাই স্পিকারের কাছে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। দল তাকে পদত্যাগ করতে বলেছে কিনা, সেই প্রসঙ্গে নাজিবুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, নৈতিক স্খলনের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তিনি এখন আর দলের সদস্য নন। বহিষ্কারের পূর্বে, আজ বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনটি ফেসবুকে একটি পোস্টে জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতে গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, দল নির্বাচন কমিশনের কাছে এই আবেদন পেশ করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন ৭৬ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম। সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর একটি বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াত এই বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে। তদন্তে প্রমাণিত হয় তাঁর নৈতিক স্খলনের বিষয়টি, যার ভিত্তিতে দল তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।।