Published : 22 Jul 2026, 10:15 PM
কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশের জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় পঁয়তাল্লিশ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই ঘাটতির ফলে শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সিএনজি স্টেশনসহ বহু গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়েছে। তবে এই সংকট দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে সরকার। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী নিশ্চিত করেন যে, এফএসআরইউটির প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সীমিত সরবরাহের মধ্যেও জরুরি ও অগ্রাধিকারমূলক খাতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ এফএসআরইউটির প্রযুক্তিগত ত্রুটি। দীর্ঘদিনের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না দেওয়ায় এই গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
ফলে আমদানি করা এলএনজি-র ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর একটি অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে একশোটি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভায় নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অংশীদারত্ব চুক্তি বা পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বান এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়াও চলছে। জ্বালানি বিভাগ স্বীকার করেছে যে, গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগে।
তাই দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভোলার গ্যাস দেশের মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার পর্যালোচনা। এছাড়াও, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলিতে নতুন কূপ খনন, পুরনো কূপের সংস্কার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখী করার কাজ চলছে। জ্বালানি বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে যে, এফএসআরইউটির প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হবে এবং তারা সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।।