Published : 21 Jul 2026, 12:15 PM
ব্যাংকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় হ্রাস, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার ফলে গত তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে ডলারের মূল্য আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। গতকাল (২০ জুলাই) কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস রেমিট্যান্সের ডলার কেনার জন্য প্রতি ডলারে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে লেনদেন করেছে, যা জুলাই মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় ১০ পয়সা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ৭৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে আন্তঃব্যাংক ডলারের রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা বজায় রেখেছে, ট্রেজারি কর্মকর্তারা মনে করেন বাস্তবে এই রেটে লেনদেন খুব কম হয়েছে। সরকারি খাতে এলসি (LC) পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ। সার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই চাপ আরও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সাধারণত এলসি খোলার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে এর দায় পরিশোধ করতে হয়, ফলে মার্চ ও এপ্রিলে খোলা অনেক এলসির পরিশোধের চাপ জুন ও জুলাইয়ে এসে পড়েছে। এছাড়াও, রমজান মাসে খোলা অনেক ইউপিএএস এলসির দায় জুনে পরিশোধ করা হয়েছে এবং চলতি জুলাই মাসেও এমন কিছু পরিশোধ চলছে। অন্যদিকে, জুনে গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় এসেছে, যা ছিল ২.৮২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের 'ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস' প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ৭০.৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের ৭০.৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে সামান্য বেশি। রপ্তানি আয় ধীর হলেও আমদানি চাহিদা শক্তিশালী থাকার বিষয়টি এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিভিন্ন ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে বেশি দামে প্রবাসী আয়ের ডলার কেনার প্রবণতা পুরো ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ব্যাংক বেশি দামে ডলার কিনে পরে কম দামে বিক্রি করছে, বিশেষ করে সরকারি এলসি পরিশোধের ক্ষেত্রে।
প্রবাসী আয়ের ডলার সংগ্রহে এই ব্যাংকের প্রতিযোগিতা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে। এই অস্থিরতা সৃষ্টিকারী কোনো ব্যাংক দায়ী কি না, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার পর বাজারের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার দর সীমিত পরিসরে রাখা হচ্ছে। এই বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের নির্ধারিত রেটের পরিবর্তে নিজেদের ওয়েবসাইটে চলতি আন্তঃব্যাংক ডলারের দর প্রকাশ শুরু করেছে, যা বিনিময় হারকে আরও বেশি বাজারনির্ভর করবে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা চলছে, যার কারণে বর্তমানে ডলারের দর নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না।।
ইরানের দাবি: রাতভর মার্কিন হামলা; কুয়েত-বাহরাইনে সামরিক স্থাপনা ও রাডার লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত