Published : 20 Jul 2026, 02:14 PM
নিউ জার্সির দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের গোলটি নিশ্চিত করে স্পেন শিরোপা ঘরে তোলে। এই পরাজয়ের পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই ম্যাচটি কি তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়? আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি নিশ্চিত করেছেন যে, আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই তারকাকে নিয়ে তাঁর কোনো আলোচনা হয়নি। স্কালোনি বলেন, 'আমি আশা করি সবাই তাঁর জন্য গর্বিত হবে। তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তার জন্য সবাই তাঁকে সম্মান করবে, কারণ তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।' ম্যাচ শেষে মেসি বা আর্জেন্টিনার অন্য কোনো খেলোয়াড় সংবাদমাধ্যমের সামনে কিছু বলেননি। বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং বারোটি লিগ শিরোপা জেতার পর, তিন বছর আগে যখন তিনি ইউরোপ ছেড়ে আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএ) যোগ দেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো ফ্লোরিডায় অবসর নেবেন। কিন্তু ৮টি গোল ও চারটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনাকে আবারও ফাইনালে নিয়ে আসেন।
বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২১, যা ছিল বিশ্বরেকর্ড। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের ২২ গোল ছাপিয়ে যান তিনি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের প্রায় ৮০ হাজার ৬৩৩ জন দর্শকই মেসির দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু পরাজয়ের পর মেসিকে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। স্প্যানিশ গোলদাতা ফেরান তোরেস মন্তব্য করেন, 'যখন মেসির বিপক্ষে খেলা হয়, তখন মানসিক চাপ অনিবার্য। তবে আমরা আমাদের খেলার কৌশলের ওপর ভরসা রেখেছিলাম এবং আমরা আমাদের ফুটবল শৈলী প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।' স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।' পুরো ম্যাচে স্পেনেরই ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য।
তারা ২০টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছিল। পাসিং-এর দিক থেকেও স্পেন অনেক এগিয়ে ছিল; তাদের ৮৪৫টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছিল ৪৩৩টি। মেটলাইফ স্টেডিয়াম মেসির জন্য আগেও এক কঠিন স্মৃতি বহন করে। ২০১৬ সালে এই মাঠে চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে তিনি অবসরের কথা বলেছিলেন। কিন্তু পনেরো বছর পর তিনি ফিরে এসে দলকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে স্পেনের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেও, মেসির চোখেমুখে ছিল কেবল শূন্যতা। এই বিজয়ের মাধ্যমে স্পেন এখন পুরুষ ও নারী উভয় বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সোনালি আবহের মাঝে যখন স্প্যানিশরা উল্লাস করছিল, তখন ফুটবল ইতিহাসের এই কিংবদন্তি মলিন মুখে মাঠ ত্যাগ করেন।।
ইরানের দাবি: রাতভর মার্কিন হামলা; কুয়েত-বাহরাইনে সামরিক স্থাপনা ও রাডার লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত