Published : 14 Jul 2026, 06:15 AM
দশম দিনে এসে কক্সবাজার অঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন এখনও স্পষ্ট। প্লাবিত এলাকা থেকে জল নামতে শুরু করায় দীর্ঘদিনের বিপর্যয়ের ক্ষতচিহ্ন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে (৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই) এই অঞ্চলে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে জেলার একরত্তি ৭十一টি ইউনিয়ন এবং পাঁচটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় দুই লক্ষ পনেরো হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। ভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে এই অঞ্চলে মোট ৩০ জন মানুষ, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্ত, প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও এখনো এক ব্যক্তির খোঁজ মেলেনি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার ছয়শো তেরোটি বসতবাড়ি এবং ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে, প্রায় দুই হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চকরিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ৬ জন নিহত এবং ১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এখানে ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে; ৪৫০টি বাড়ি এবং ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উখিয়া উপজেলায় ভূমিধসের কারণে ১৩ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার সদরে ৩ জন, রামুতে ২ জন এবং মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে ১ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। মহেশখালীতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ১৫টি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ঈদগাঁও উপজেলায় ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হলেও সেখানে ৩০টি বাড়ি এবং ৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর জল বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকার ২৫ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল কুমার প্রমাণিক জানিয়েছেন, এই নয় দিনের দুর্যোগে ৪ হাজার ২১২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৬২০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৭০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৯৫ হেক্টর শাক-সবজি এবং ১৬৬ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির ফলে সরাসরি ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের ৭ হাজার ৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২৯৮ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এই ত্রাণ চাহিদা আরও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।।
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আমরাই নেব, মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক চাই: ট্রাম্পের দাবি