Published : 13 Jul 2026, 03:14 AM
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র বিভেদ দেখা দিয়েছে। দলটি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী। এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূলের কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি নতুন দল গঠন করেছে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে তারাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইতিমধ্যেই তাদের দলে ৬৫ জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন। গত দু'দিনের মধ্যে অনুব্রত মণ্ডল এবং সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষও এই দলে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রত দাবি করেন, তারা চাইলে দলের বিধায়কের সংখ্যা দ্রুত ৭৫-এ নিয়ে যেতে পারে, তবে তারা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করছেন না। ঋতব্রত আরও উল্লেখ করেন যে উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ শনিবার তাদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যদিও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যদিও নির্মল ঘোষ দাবি করেছেন যে তাঁকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে কেউ তাঁকে ডাকেনি। তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গতকাল হঠাৎ তাঁকে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ধর্ষণের শিকার চিকিৎসকের মা এবং বর্তমানে পানিহাটি বিজেপির বিধায়ক রত্না দেবনাথ দাবি করেছেন, নির্মল ঘোষের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁকে দায়ে ধরতেই হবে। এছাড়াও, নির্মল ঘোষ এক কোটি টাকার লটারির অর্থ প্রতারণা করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে মামলায় জড়িয়েছেন।
মামলার বাদী অবিলম্বে নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের লটারিতে এক কোটি টাকা জেতানো জয়ন্ত দাস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ ভয়ভীতি দেখিয়ে টিকিট হাতিয়ে নেন। অন্যদিকে, শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক সাবেক মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বিদ্রোহীদের দলে যোগ দিয়ে বলেছেন যে, এখন প্রয়োজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া। তাঁর ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি এবং ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই দলের এই পতন ঘটেছে এবং মমতার দলের সাজানো বাগান ভেঙে যাচ্ছে।।