Published : 10 Jul 2026, 04:02 PM
পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীন এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সাগরে স্থাপিত একটি প্ল্যাটফর্মে জালের সাহায্যে রকেটের বুস্টার সফলভাবে উদ্ধার করে এই দেশটি এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুসারে, স্থানীয় সময় দুপুর বারোটা পনেরোতে দক্ষিণাঞ্চলের হাইনান বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে 'লং মার্চ–১০বি' রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের মাত্র ছয় মিনিট পর, বুস্টারটি মূল রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে সমুদ্রের প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং জাল ব্যবহার করে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এটি কক্ষপথে পৌঁছানোর সক্ষমতাসম্পন্ন রকেটের বুস্টার পুনরুদ্ধারে চীনের প্রথম সফল প্রচেষ্টা। এই সাফল্য পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির পথে চীনকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
এই খবর প্রকাশের পর চীনের বিভিন্ন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই 'লং মার্চ–১০বি' রকেটটি স্পেসএক্সের 'ফ্যালকন ৯'-এর মতো। তবে, ফ্যালকন ৯ যেভাবে মাটিতে নামার বদলে 'অবতরণে সক্ষম পা' ব্যবহার করে অবতরণ করে, চীনের এই বুস্টারটি বিশেষ 'ল্যান্ডিং হুক' ব্যবহার করে সাগরের প্ল্যাটফর্মে টানানো জালে ধরা পড়ে। স্পেসএক্স ২০১৫ সালে প্রথমবার কক্ষপথ থেকে ফিরে আসা 'ফ্যালকন ৯'-এর বুস্টার সফলভাবে অবতরণ করেছিল। বর্তমানে স্পেসএক্স বছরে প্রায় ১৫০টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করে এবং একই বুস্টার বারবার ব্যবহার করে। চীন প্রায় এক দশক ধরে এই পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।
এই প্রযুক্তি সফল হলে উৎক্ষেপণের খরচ অনেক কমবে এবং দেশটির দ্রুত সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক উপগ্রহ কর্মসূচির গতি আরও বাড়বে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি চীনা কোম্পানিগুলোও এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বেইজিং এই খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়মও শিথিল করেছে। চীনের ২০৩০ সালের আগে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে 'লং মার্চ–১০' রকেট। সিসিটিভি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই একই বুস্টারটি আবারও একটি উৎক্ষেপণে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।।
আলোচনার পথে ইরান, মার্কিন সম্মতি; যুদ্ধবিরতি সমাপ্ত: ট্রাম্পের মন্তব্য