Published : 09 Jul 2026, 12:02 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান তাকে হত্যার চেষ্টা করছে এবং তিনিই দেশটির 'এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু'। এই মন্তব্যটি তিনি আঁকার সময় আসে যখন তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাঁচ মাস আগে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশ নেতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, একসময় তাদের একদল নেতা ছিল, যারা নেই; এরপর আরেক দল এলো, তারাও শেষ। এখন অন্য একটি দল রয়েছে, যারা হয়তো টিকে থাকবে না। ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমি তাদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু, কারণ তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রকৃতির। গত প্রায় ৪৭ বছর ধরে তারা এই পথেই চলেছে। তবে আমি দেশের স্বার্থে যা সঠিক তা-ই করছি।' ইরানি নেতাদের 'নিকৃষ্ট' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বর্তমান নেতৃত্বের বিষয়ে মন্তব্য করেন।
তিনি মনে করেন, বর্তমান নেতারা আগের নিহত নেতাদের চেয়ে কিছুটা বেশি যুক্তিবাদী। ট্রাম্প বলেন, 'ইরানের লেভেল ওয়ান এবং লেভেল টু নেতারা নির্মূল হয়েছে। এখন লেভেল থ্রি চলছে। আমার ধারণা, এই নেতারা পূর্ববর্তী নেতাদের চেয়ে কিছুটা বেশি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন।' যদিও হরমুজ প্রণালীতে ইরানিদের হামলার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ট্রাম্পের মনে এই যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে। এই উত্তেজনার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বিমান হামলা শুরু করেছে এবং ট্রাম্প যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। হত্যার ষড়যন্ত্রের ইতিহাস প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে ২০১৯ সালের শেষ দিকে যখন তিনি ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেন, তখন থেকেই ইরানি নেতারা ট্রাম্প এবং তার পূর্ববর্তী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত বিমান 'ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান'-এর পরিবর্তে স্টিভ উইটকফের বিমান ব্যবহার করতেন। সেই সময়ে মার্কিন গোয়েন্দারা আশঙ্কা করতেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইরানি এজেন্টদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। মার্চ মাসে নিউইয়র্কের একটি আদালত আসিফ মার্চেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়ায় অংশ নেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে।
বিচার বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে আসিফ স্বীকার করেন যে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা সাজাতে আইআরজিসি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আশঙ্কা কেন করেছিলেন—এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে একটি 'বিপজ্জনক পেশা' বলে অভিহিত করেন। তবে তিনি যোগ করেন যে তিনি মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত নন। তার কথায়, 'আমি সত্যিই পরোয়া করি না, কারণ আমি আমার কাজ করছি। আশা করি আমি আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে ভালো করছি।' টিকটক প্রসঙ্গে মজা করে ট্রাম্প বলেন, 'আমি টিকটক তালিকার শীর্ষে থাকতে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু এখন আমি হত্যার তালিকারও এক নম্বরে আছি।'।
হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত: ইরানের পাল্টা আক্রমণে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা, যুদ্ধবিরতি কি ভঙ্গ হলো?