Published : 09 Jul 2026, 08:29 AM
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি আজ প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। আপাতদৃষ্টিতে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি মাধ্যম হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ মানবিক উপাখ্যান। প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে থাকে প্রবাসীদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্যাগের ইতিহাস, প্রিয়জনদের জন্য ছেড়ে যাওয়ার বেদনা এবং অদম্য কর্মের ফল। আজ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আধুনিকতার আলো এসে পড়েছে। যেখানে একসময় জীবন ছিল সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে আবদ্ধ, সেখানে এখন গড়ে উঠেছে আধুনিক বাজার, ব্র্যান্ডের শোরুম, উন্নত স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট এবং বহুতল ভবন। এই রূপান্তরের সূচনা কোথা থেকে, সেই রহস্যের উত্তর খুঁজতে গেলে বারবার সামনে আসে প্রবাসীদের নাম।
দূর পরবাসে তাদের জীবনযাত্রা, নানা আনন্দ-বেদনা, ছবি ও গল্প পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত। বিদেশে কর্মরত অসংখ্য বাংলাদেশি শুধু পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করেননি; তাঁরা নিজেদের মাতৃভূমিতে বিনিয়োগ করেছেন। কেউ নতুন বাজার তৈরি করেছেন, কেউ ব্যবসা শুরু করেছেন, আবার কেউ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় অর্থ ব্যয় করেছেন। সফল হোক বা ব্যর্থ, তাঁদের প্রতিটি প্রচেষ্টা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের পথ প্রশস্ত করেছে। যদিও দেশের উন্নয়নের আলোচনায় প্রবাসীদের অবদান প্রায়শই কেবল আর্থিক অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার বিকাশে তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রের উচিত প্রবাসীদের কেবল বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহকারী হিসেবে নয়, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে সম্মান জানানো।
নিরাপদ বিনিয়োগ, সহজ ব্যাংকিং সুবিধা, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি টাকা কেবল আর্থিক লেনদেন নয়, তা এক স্বপ্ন, এক পরিবারের আশা এবং দেশের অগ্রযাত্রার এক দৃঢ় ভিত্তি। বাংলাদেশের গ্রামীণ আধুনিকতার এই ইতিহাস লিখতে গেলে প্রবাসীদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা অপরিহার্য।।
মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের সম্প্রচারে দায়িত্বে থাকা গাজার প্রবীণ নেতাকে হত্যা করল ইসরায়েল