Published : 11 Jul 2026, 08:13 PM
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের শিকার হয়ে তাঁর পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এই প্রতিশোধ অবশ্যই সম্পন্ন হবে।' প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তাঁর বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমরা প্রতিজ্ঞা করছি যে, আপনার নিষ্পাপ রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধে শহীদ হওয়া সকলের রক্তের প্রতিশোধ আমরা সেই অপরাধী ও ঘৃণ্য হত্যাকারীদের কাছ থেকে নেব।' বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি আরও যোগ করেন, 'এই অপরাধীদের নাম আমাদের সকলের জানা এবং তা লিপিবদ্ধ আছে। তারা যে শান্তিতে মরার স্বপ্ন দেখছে, তা অধরাই থেকে যাবে; সেই স্বপ্ন নিয়েই তাদের কবরে যেতে হবে।
তাদের জেনে রাখা উচিত, এই প্রতিশোধের বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার বেঁচে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভরশীল নয়।' তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, 'আমরা থাকি বা না থাকি,' এই প্রতিজ্ঞা শীঘ্রই পূরণ হবে। এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান তাকে হত্যা করলে দেশটির সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন নেতার হত্যার কথিত হুমকির বিষয়ে অবহিত করে। একজন ইসরায়েলি সূত্র এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, তেহরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্বের কিছু অংশের মধ্যে এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। তবে সংশ্লিষ্ট দুটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি; বরং বিভিন্ন ইরানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এই ধরনের আলোচনা বা হুমকির বিষয়টি সামনে এসেছে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। ধারণা করা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তাঁর বাবা, মা এবং স্ত্রী নিহত হন এবং তিনি নিজেও আহত হন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই নতুন সর্বোচ্চ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের সাথে কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখছেন; কখনোই নিজের মুখ বা কণ্ঠস্বর প্রকাশ করেননি। শনিবারের এই বার্তাটি খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রকাশিত হাতেগোনা কয়েকটি বিবৃতির মধ্যে অন্যতম।।