Published : 14 Jul 2026, 04:15 AM
চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা নাগাদ এই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই আক্রমণের পূর্বেই তাদের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে মাসিক দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এই দাবি প্রত্যাখ্যান করার পরই হামলাকারীরা এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়ে অর্থ ও সম্পত্তি লুট করে। ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন জানান, ঘটনার দু'দিন আগে এক বিদেশি নম্বর থেকে নিজেকে 'ডেভিড ইমন' পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য দুই কোটি টাকা অগ্রিম এবং মাসিক দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়। তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তি দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে তাদের চক্রের নিয়ন্ত্রণে চলবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই কার্যালয়ে আক্রমণ চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদিল আরও বলেন, ফোনকারী ব্যক্তি নিজেকে এলাকার পরিচিত কেউ বলে দাবি করে এবং পুলিশ কমিশনারকে ছবি দেখলেই তাকে চিনতে পারবেন বলেও হুমকি দেয়।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যক্তি বিভিন্ন চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির জানিয়েছেন, অফিস চলাকালীন ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মীদের ভয় দেখিয়ে অফিসের বিভিন্ন অংশ তছনছ করে। হামলাকারীরা কম্পিউটার, সার্ভার সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন এবং আসবাবপত্রসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভেঙে দেয়। তাদের দাবি, কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য অফিসে রাখা প্রায় পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা তারা নিয়ে যায়। ভাঙচুরের ফলে আরও কিছু মূল্যবান যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি জানান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু লোক হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে একের পর এক কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস করছে। একজনকে কুড়ালসদৃশ অস্ত্র দিয়ে যন্ত্রপাতি আঘাত করতে দেখা যায়।
পুরো সময় কর্মীরা আতঙ্কে অফিসের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। পুলিশের একটি সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও পুলিশ নিশ্চিত তথ্য দিতে রাজি হয়নি, তবে তারা জানিয়েছে, চট্টগ্রামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে এবং এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ডিডিএন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার আসল কারণ, লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।।
হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘোষণা: ট্রাম্পের নতুন কৌশল