Published : 14 Jul 2026, 03:15 AM
ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এক ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার রামাল্লার উত্তরে সিনজিল গ্রামের কাছাকাছি কিছু গণমাধ্যমের সাংবাদিক একত্রিত হলে এই আক্রমণ সংঘটিত হয়। এক বছর আগে এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সাইফ মুসাল্লাতকে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করেছিল। সেই স্মৃতিচারণের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকরা সেখানে খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই একদল বসতি স্থাপনকারী ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের পথ অবরোধ করে। তারা কাঠ, ধাতব লাঠি এবং ছুরি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করে। এক সাংবাদিক সিএনএন-এর গাড়ির চাকা ফুটো করার চেষ্টা করেন।
এরপর হামলাকারীরা অন্য একটি গাড়িতে উঠে আসে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়। তারা অন্য পথও বন্ধ করে সাংবাদিকদের সিনজিল শহরের দিকে তাড়া করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের কাছ থেকে কাঠের লাঠি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ঘটে যাওয়া এই ধরনের সহিংসতা বা সম্পত্তির ক্ষতি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। বিশেষত যখন সাংবাদিকরা এই ধরনের আক্রমণের শিকার হন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সাইফ মুসাল্লাত নিহত হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে তদন্তের দাবি করেছিলেন। তবে মুসাল্লাতের পরিবার জানিয়েছে, এক বছর পরেও এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গত শনিবারের হামলার কিছুদিন আগে পশ্চিম তীরের হেবরনের দক্ষিণে সফররত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রো খান্নাকেও বসতি স্থাপনকারীরা আটকে রেখেছিল। তিন দিনের সফরে তিনি তুরমুস আইয়া গ্রাম পরিদর্শন করেন, যেখানে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে এবং যা বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের শিকার। পশ্চিম তীরে মার্কিন আইনপ্রণেতা রো খান্না জানিয়েছিলেন, তাঁকে আটকে রাখা বসতি স্থাপনকারীদের চোখে তিনি ঔদ্ধত্য দেখেছেন এবং তাঁদের আচরণে কোনো সম্মান ছিল না। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সহিংসতার বিষয়টি ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করে বলেন, এসব ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন ‘উচ্ছৃঙ্খল তরুণ’ জড়িত এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। যদিও আদালত তুলনামূলকভাবে নমনীয়। তবে একথাও স্বীকার করতে হয় যে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং নতুন বসতি সম্প্রসারণের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই নির্বিকারভাবে দাঁড়িয়ে থাকে।।
হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘোষণা: ট্রাম্পের নতুন কৌশল