Published : 13 Jul 2026, 09:16 AM
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবদুর রহিমের এক অসাধারণ যাত্রা আমাদের সামনে এক নতুন পথের সন্ধান দেয়। প্রায় ষোলো বছর আগে তিনি শুধু জীবিকার তাগিদে ১০০ টাকা দিয়ে ১০০টি কেঁচো কিনে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির পথ বেছে নেন। আজ, এই উদ্যোগটি শুধু একটি ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়, বরং এটি কৃষিক্ষেত্রের জন্য কর্মসংস্থান এবং সৃজনশীল উদ্ভাবনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুর রহিম এখন প্রতি বছর ২৪০ মেট্রিক টনের জৈব সার ও কেঁচো উৎপাদন করে ১৪ লক্ষ টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা তাঁকে বছরে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা লাভ এনে দিয়েছে। তাঁর এই সফল উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যোক্তা এবং কৃষিক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্ভাবনী পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে এক নতুন প্রেরণা যোগায়। শিক্ষিত সমাজের মধ্যে বেকারত্বের তীব্রতা বিবেচনা করলে, কৃষির মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অপরিহার্য।
বিশেষত, কৃষিভিত্তিক সমাজে এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগের সম্ভাবনা অফুরন্ত। মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তার বিপরীতে আবদুর রহিমের জৈব সারের উদ্যোগ মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় এক চমৎকার সমাধান। যেখানে মাটিতে জৈব সারের পরিমাণ ৫ শতাংশ থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে তা ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে, জৈব সার উৎপাদনের এই পথটি আরও এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। আবদুর রহিম এখন তাঁর এই উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। তিনি সনাতন পদ্ধতিতে সার বিক্রি করার পরিবর্তে এখন ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করছেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাঁর উৎপাদিত সার শুধু স্থানীয় কৃষকদের নয়, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সার ব্যবসায়ীদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যেই পাঁচজন কর্মীকে নিয়মিত কাজ দিচ্ছেন। তাঁর এই সাফল্য স্থানীয়দের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কেঁচো সার তৈরির আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, যা কৃষি খাতে সৃজনশীল উদ্ভাবনের এক নতুন ধারা তৈরি করেছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলিকে দেশের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে আরও বেশি পদক্ষেপ ও সহায়তা প্রয়োজন। নাগরিকদের এই ধরনের বৈচিত্র্যময় সৃজনশীল কাজ সহজে এগিয়ে নিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো উচিত। জৈব সারের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা জরুরি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও দিকনির্দেশনা পেলে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের প্রতিটি গ্রামীণ অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে।।
ইরানের দাবি: রাতভর মার্কিন হামলা; কুয়েত-বাহরাইনে সামরিক স্থাপনা ও রাডার লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত