Published : 11 Jul 2026, 04:13 PM
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ভয়াবহ জলমগ্নতার শিকার হয়েছে। দুই দিনের অবিরাম বর্ষণে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি আমদানিকারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ যদিও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শত শত কোটি টাকার মালপত্র ভেসে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনে একাধিক শেড এবং ইয়ার্ড পানিতে ডুবে গেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি বের করার চেষ্টা করছে, তবুও অবিরাম বৃষ্টির কারণে এই কাজ কঠিন হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কথা জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বীমার ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণও পাওয়া যাচ্ছে না। গত বর্ষায় কমিটি গঠিত হলেও তার কোনো ফল আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম জানান, "বন্দরে সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক পণ্যাগারে পানি ঢুকে মূল্যবান মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের উন্নয়ন হলেও অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় এই সমস্যা বারবার হচ্ছে। বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।" আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু আরও বলেন, "দেশের এই বিশাল স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই এই দুর্দশা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকার এই বন্দরের কাস্টমস থেকে বছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই সমস্যা চলতে থাকা সরকারের নীরবতা দুর্ভাগ্যজনক। ব্যবসায়ীরা বারবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।" বন্দর স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, "টানা বৃষ্টিতে অনেক শেডে পণ্য পানিতে ভিজেছে এবং পানি বের করার চেষ্টা চলছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে বৃষ্টি থামলে এই সমস্যা সমাধান হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"।