Published : 10 Jul 2026, 04:14 AM
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় এক আসামির মৃত্যু সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতৃণদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে বারো জন আহত হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এই ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান। এছাড়াও রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) এবং মমতাজ বেগমসহ (৪৭) আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের পুত্র রিয়াজ ফকিরকে চুরির অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানা গারদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সবুজ টি-শার্ট পরিহিত রিয়াজ ফকির গারদে প্রবেশ করে লোহার গেটের সঙ্গে নিজের মাথা আঘাত করে জ্ঞান হারান।
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বুধবার রাত ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। জ্ঞান না ফেরা রিয়াজ ফকিরকে গভীর রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পরেও তার জ্ঞান না ফেরে, বৃহস্পতিবার বিকেলে এলাকায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তার আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে থানা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশও মিছিলকারীদের ওপর লাঠি ও বাশঁ দিয়ে হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত বারো জন আহত হন।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রিয়াজের মা নাছরিন বেগম বলেন, 'আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে রাস্তা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে, যার ফলে সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।' আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানান, 'চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেলখানায় বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে জ্ঞান হারায় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক মানুষ মিছিল করে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'।