Published : 09 Jul 2026, 04:04 AM
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই উন্নয়নকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে, তবে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণ করা হয়নি। শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করছি, কিন্তু এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নিইনি।' করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের আগ্রহের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পরিবহন খরচ কমানোর দিকটি তুলে ধরেন।
চীন সফর থেকে বাংলাদেশ কী লাভ করল—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কোনো সাহায্য বা ভিক্ষা নিয়ে যাইনি। এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ নির্ধারণের জন্য। যদি এই লক্ষ্য পূরণ হয়, তবে অন্যান্য সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে আসবে। এই বিষয়ে আত্মমর্যাদা বজায় রাখা উচিত এবং এমন বিব্রতকর প্রশ্ন করা উচিত নয়।' তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান জানান, এই বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'তিস্তা প্রকল্পের আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
' দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, বেইজিং খুব কম দেশের সাথেই এই স্তরের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে। এশিয়ার থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের সাথেই তাদের এমন সম্পর্ক রয়েছে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।।