Published : 09 Jul 2026, 04:03 AM
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার চূড়ান্ত রায় আজ রোববারে ঘোষণা করা হচ্ছে। এই মামলায় রাজধানীর রামপুরার একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলন্ত এক তরুণকে গুলি করা এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। এই মামলার বিচার পরিচালনা করছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য বিচারপতিগণ হলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া এই অপরাধের বিষয়ে ইতিমধ্যেই চারটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে, এবং আজ এই মামলার পঞ্চম রায় ঘোষণা হতে চলেছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই মামলায় তারা মোট তেরো জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন। এই মামলার চার আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (যাঁর বিরুদ্ধে চানখাঁরপুলের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
অপর আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার কারাগারে আছেন। এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা। দ্বিতীয়ত, একই দিন বনশ্রী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলন্ত আমির হোসেনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা। তৃতীয় অভিযোগ হলো, সেদিন (২০২৪ সালের ১৯ জুলাই) বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলি করা এবং সেই গুলিতে দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা করা। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কর্তৃক গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছিল। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে গত বছরের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। যুক্তিতর্ক শেষ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষায় ছিল। ট্রাইব্যুনাল ৪ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে গত ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার আজ সম্পন্ন হতে চলেছে।।