Published : 09 Jul 2026, 03:53 AM
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এই পদক্ষেপকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে বাংলাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছে। তবে এই বিষয়ে ঢাকা এখনও কোনো চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণ করেনি। শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, 'আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছি, কিন্তু এখনো কোনো পক্ষ নিইনি।' করিডোর নিয়ে সরকারের আগ্রহের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি পরিবহন খরচ কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন।
চীন সফর থেকে বাংলাদেশ কী লাভ করল—এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কোনো উপহার নিয়ে যাইনি। এই সফর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অভিমুখ নির্ধারণের জন্য। যদি এই পথ ঠিক হয়, তবে অন্যান্য সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে আসবে। এই বিষয়ে একটু আত্মমর্যাদা বজায় রাখা উচিত। এমন বিব্রতকর প্রশ্ন করা ঠিক নয়।' তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান আরও জানান, 'এই বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই খুব দ্রুত শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।
' দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।' তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে এই স্তরের অংশীদারিত্ব সীমিত রাখে। থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি দেশের সঙ্গে তাদের এই সম্পর্ক। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।।