Published : 07 Jul 2026, 05:52 AM
দীর্ঘদিন ধরে কৃষি খাত অগ্রাধিকার পেলেও, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি প্রদান করে আসছে। এর সিংহভাগই সারের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে কৃষি খাতে ভর্তুকির বণ্টন ও ব্যবস্থাপনায় যে গভীর বৈষম্য ও দুর্বলতা উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে অবশ্যই ভর্তুকির কাঠামোতে জরুরি পুনর্বিন্যাস করতে হবে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যয় সারের ভর্তুকির পেছনে চলে যায়। অথচ দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ ভূমিমালিক প্রায় অর্ধেক সুবিধা ভোগ করছেন, যেখানে নিচের ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ভাগে যাচ্ছে মাত্র পনেরো শতাংশ সুবিধা। এটি স্পষ্টতই ভর্তুকিতে এক বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, যেখানে বৃহৎ জমির মালিকরা অধিকাংশ সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট কৃষকদের।
ঐতিহাসিকভাবে, কৃষি ভর্তুকির মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা, যার ফলে সরকারি ব্যয়ের সিংহভাগ ধান উৎপাদনকেন্দ্রিক সহায়তায় ব্যয় হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ সেবা, প্রযুক্তিগত পরামর্শ, সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষিত থেকেছে। এর কারণে একদিকে যেমন ফসলের বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি কৃষকরা উৎপাদন করেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার মোকাবিলায় কৃষি খাতকে প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তাও উপেক্ষিত হয়েছে। আমাদের মনে হয়, কৃষি খাতে ব্যয় ও ভর্তুকির ফোকাস শুধু ধান ও সারের উৎপাদন থেকে সরে এসে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ভোক্তার চাহিদা ব্যাপক পরিবর্তিত হয়েছে। ফল, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনলেও, সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হতে হবে। কৃষকরা আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিপুল উৎপাদন করলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আত্মহত্যার পথে। একই সাথে, বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ফল, সবজি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি হচ্ছে না। বাংলাদেশের কৃষি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সীমিত ভূখণ্ডে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কৃষিকে আধুনিক, উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত করতে হলে, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভর্তুকি নকশাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে পুনর্গঠন করা আবশ্যক।।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে চাপ সৃষ্টি করছে