Published : 26 May 2026, 04:24 AM
আর কয়েক দিন পরেই ঈদ-উল-আযহা। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার কোরবানির পশু বাজারগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ রয়েছে। ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম বেশ সহনীয়। দর কষাকষির মাধ্যমে পশু কেনাবেচা হওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই খুশি। তবে সোমবার (২৫ মে) একটানা ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পশু বাজারগুলোতে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে গাবতলী হাটের অধিকাংশ অংশ পানিতে ডুবে যায়। অনেক জায়গায় হাঁটু পানিতে পশুদের নিয়ে চলাচল করতে বিপাকে পড়েন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। কয়েকজন বিক্রেতা বালু ও খড় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছেন। পশু রাখার স্থান শুকনো রাখতে নানা পদক্ষেপ নিলেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।
এই বছর ঢাকা শহরের দুই সিটি কর্পোরেশন মোট ২৪টি অস্থায়ী পশু বাজার স্থাপন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গাবতলী পশু বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পশুটি কিনতে এসেছেন, আবার কেউ কেবল ঘুরে দেখছেন ও দাম যাচাই করছেন। গাবতলীতে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, অতিরিক্ত দাম হাঁকানো তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দরদাম করার সুযোগ রয়েছে। তবে কিছু ক্রেতার মতে, দাম এখনও কিছুটা বেশি, যা সময় বাড়ার সাথে সাথে কমতে পারে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা খামারি আরমান মিয়া বলেন, ‘আমি ২৫টি গরু নিয়ে এসেছিলাম, এর মধ্যে ২১টি বিক্রি হয়ে গেছে। আশা করছি, বাকিগুলোও বিক্রি করতে পারব।’ নরসিংদী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৭টি গরু নিয়ে এসেছি, ১০টি বিক্রি হয়েছে, এখনও ৭টি আছে। বৃষ্টির কারণে গরুগুলো পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পশুগুলো কষ্ট পাচ্ছে, আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে।
’ নেত্রকোনা থেকে আসা ব্যবসায়ী তালেব মিয়া বলেন, ‘আমি ও আমার ভাই মিলে আটটি গরু এনেছি। এর মধ্যে আমাদের খামারের গরুও আছে। কিন্তু দুই দিনেও মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি।’ গাবতলী পশু বাজার পরিদর্শন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নিয়মিত টহল ছাড়াও অতিরিক্ত মোবাইল টিম, পায়ে হেঁটে টহল এবং চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘ক্রেতারা যেন নিরাপদে পশু কিনে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কাজ করছে। হাসিলের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হবে না, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী দুই দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পশু কেনাবেচা আরও জমে উঠবে।।