Published : 17 May 2026, 12:46 AM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর উপর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ না হওয়ায়, শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছে।শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে বীর প্রতীক তারামন বিবি হল থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল ঘুরে রাত আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের বাসভবনের সামনে এসে জড়ো হয় এবং অবরোধ শুরু করে।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা প্রশাসনকে একটি স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাই তারা প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে পুনরায় আন্দোলনে নেমে এসেছে।আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, থানায় মামলা১৩ মে ২০২৬ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে তিনটার দিকে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বাসভবন থেকে বের হন।
শিক্ষার্থীরা তাকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জবাবে উপাচার্য জানান, অপরাধী ক্যাম্পাসের বাইরে হওয়ায় বিষয়টি তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে সাভার-আশুলিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।আন্দোলনকারীরা জানায়, গত বুধবার তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেছিল, যার মধ্যে প্রথমটি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা। সময়সীমা পার হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা হিসেবে তারা প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করছে।এরপর উপাচার্য এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে ঘটনাস্থলে আনার দাবি জানায়।
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরনগরে পাঁচটি পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত১৪ মে ২০২৬ নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান শুভ জানায়, ‘উপাচার্য শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে প্রক্টর কোথায় আছেন তিনি জানেন না এবং প্রক্টর কারো ফোন ধরছিলেন না। কিন্তু আমরা ভোর পাঁচটার দিকে উপাচার্যের বাসভবন থেকে প্রক্টরকে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলতে দেখেছি। এটা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাই আমরা প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’।