Published : 16 May 2026, 03:19 AM
সুন্দরবনের গভীরে আবারও দুঃসংবাদ। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ বনদস্যুদের হাতে আবারও আটজন জেলে অপহৃত হয়েছেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে এই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। দস্যুরা অপহৃত জেলেদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে। স্থানীয় সূত্র ও জেলেদের সহযোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদের সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালীরচর এলাকায় মাছ ধরা ও মধু সংগ্রহের সময় সশস্ত্র দস্যুরা তাঁদের ধরে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা নিজেদের ‘নানাভাই ওরফে ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মীরগাঙ এলাকার নজরুল তরফদার (৪৫) ও আবদুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার আবদুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আবদুল আলিম (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮) ও আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং খুলনার কয়রা এলাকার আবদুস সাত্তার (৪০) ও শাহিনুর রহমান (৩৮)।
অপহৃত জেলেদের কয়েকজন সহযোগী ও মহাজন জানান, দস্যুরা প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এর আগেও সুন্দরবনে অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্তিপণ হিসেবে একই নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি মধু মৌসুমের শুরুতেই মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে দস্যুদের বিরুদ্ধে। টাকা দেওয়ার পরই অনেকে বনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এর আগে ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদের চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়। স্বজনদের দাবি, সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাঁরা মুক্তি পান। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান চালালেও সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না, বরং জেলে, মৌয়াল ও বননির্ভর মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, ‘বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো কেউ আমাদের জানায়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’ শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো পরিবার থানায় অভিযোগ করেনি। সাধারণত, এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে জেলেরা নিজেরাই সমঝোতা করে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
বেইজিং-ওয়াশিংটনে বড় চুক্তি: তেল ও বোয়িং জেট কিনবে চীন, হরমুজ প্রণালীও খুলতে রাজি, জানালেন ট্রাম্প