Published : 07 May 2026, 06:06 AM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর প্রতি সরকার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত করা, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান। রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষপাতী নয়, বরং সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, চীনসহ অন্যান্য দেশের সাথেও সম্পর্ক জোরদার করছি।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার সময় ঔষধ শিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ধারণা এবং কৃষি ও শিক্ষাখাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পরিবর্তন—বিশেষ করে উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কাঠামোগত সংস্কার—বিবেচনা করে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বৈঠকে শ্রম আইন সংশোধন এবং কারখানাগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সাথে সমন্বয় করে এই খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি, তবে এই চুক্তিগুলোর পরামর্শ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি নতুন পণ্যের বাজার তৈরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।।
বিদায় টেড টার্নার: সংবাদ বিপ্লবের পথিকৃৎ আর সিএনএন-এর স্বপ্নদ্রষ্টা