Published : 05 May 2026, 12:05 AM
দীর্ঘদিন ধরে ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আজ এই কেন্দ্রে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হলেন তিনি। বিশ রাউন্ড গণনা শেষে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে হারিয়ে দিয়েছেন। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও জয়লাভ করেছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে ভোটগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে গিয়ে ভোটগণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন।
তবে গণনা অব্যাহত ছিল। অবশেষে রাত সাড়ে নয়টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৬৩ ভোট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৩৪৯ ভোট। নির্বাচনের শুরু থেকেই শুভেন্দু অধিকারী তার কৌশল ও হিসাব-নিকাশ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকার বিধানসভায় হেরে যাওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার কথাই সত্যি হলো।
জয়লাভের পর বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি ভোট লুট করেছে এবং তাকে জোর করে হারানো হয়েছে। তিনি আবারও ফিরে আসার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পরাজয়ের একটা ব্যাখ্যা দেওয়া গেলেও, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর ধারাবাহিক জয়ে মমতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গভীর প্রভাব পড়বে। মমতাকে হারানোর ফলে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছেন, যদি না বিজেপি শেষ মুহূর্তে কোনো চমক দেয় – যা তারা প্রায়শই করে থাকে।।