Published : 07 May 2026, 04:07 AM
বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন সাংবাদিকতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সিএনএন-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবক টেড টার্নার আর নেই। গতকাল বুধবার (৬ মে) নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। টার্নার এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ওহাইওতে জন্ম নেওয়া আটলান্টার এই উদ্যোক্তা তাঁর স্পষ্ট কথা বলার ভঙ্গি ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের জন্য 'দক্ষিণের মুখ' নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কেবল একটি মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তোলেননি, বরং ক্যাবল টিভির প্রথম সুপারস্টেশন, জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও কার্টুন চ্যানেল এবং আটলান্টা ব্র্যাভসের মতো ক্রীড়া দলেরও মালিক ছিলেন। টেড টার্নার ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৌ-রোয়ায়ী, জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের একজন সক্রিয় প্রবক্তা।
আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে বিলুপ্তপ্রায় বাইসন (এক প্রকার বুনো মহিষ) ফিরিয়ে আনতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং কার্টুন ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’-এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। তবে বিশ্বজুড়ে তাঁর খ্যাতির মূল কারণ ছিল তাঁর সাহসী চিন্তা—বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর রিয়েল-টাইমে মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। ১৯৯১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে 'বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি তাঁর নেটওয়ার্কগুলি টাইম ওয়ার্নারের কাছে বিক্রি করে দেন, সিএনএন-কে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করতেন। সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন এক বিবৃতিতে বলেন, “টেড ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতা। নির্ভীক, অকুতোভয় এবং নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতেন তিনি। তিনি ছিলেন সিএনএন-এর প্রাণশক্তি এবং চিরকাল থাকবেন।
টেড হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার উপর ভর করে আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আজ আমরা সকলে মিলে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং আমাদের জীবন তথা বিশ্বের উপর তাঁর অসীম প্রভাবকে স্বীকার করছি।” ২০১৮ সালে টেড টার্নার জানান, তিনি ‘লিউয়ি বডি ডিমেনশিয়া’ নামক মস্তিষ্কের একটি জটিল রোগে ভুগছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি তাঁর পাঁচ সন্তান ও ১৪ জন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।।
ইস্তফা নয়, বরং বরখাস্ত করুক! মমতার হুঙ্কার, 'কালো দিন' হিসেবে চিহ্নিত হোক সেই মুহূর্ত