Published : 13 Apr 2026, 07:10 PM
কক্সবাজারের কানাইয়ারবাজারে মাছের ঝাঁক! শেডের নিচে সারিবদ্ধভাবে সাজানো সামুদ্রিক আর মিঠাপানির নানা মাছ। ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম বাজার। দশ-পনেরো কেজি চাপিলা মাছ নিয়ে বসেছেন এক বিক্রেতা। একে একে ক্রেতারা কিনছেন, কেউ দুই কেজি, কেউ বা তিন কেজি। ঝুড়িতে থাকা শেষ কয়েক কেজি চাপিলার জন্য রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই দৃশ্য দেখা যায়। পয়লা বৈশাখের পান্তার আয়োজনে ইলিশ না পেয়ে অনেকেই চাপিলা মাছের দিকে ঝুঁকছেন। বদরমোকামের ব্যবসায়ী ছৈয়দুল আলম (৪৫) জানালেন, “প্রতি বছর পান্তার আয়োজন তো থাকবেই, কিন্তু ইলিশ তো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ইলিশের মতো দেখতে চাপিলা দিয়েই কাজ সারতে হবে।” ঘোনাপাড়ার আজিজুল হক বললেন, “সপ্তাহখানেক আগেও চাপিলা ১৫০ টাকা কেজি ছিল। বৈশাখ আসতে না আসতেই দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। ইলিশের মতো দেখতে বলে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।” এছাড়াও অনেকে বৈশাখের জন্য ফাইস্যা মাছও কিনছেন। ২০০-২১০ গ্রাম ওজনের এই মাছের দাম কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।
বাজারের এক কোণে কিছু ইলিশ বিক্রি করছিলেন নজরুল ইসলাম। প্রতিটি মাছের ওজন ২৮০-৩৫০ গ্রাম, অনেকটা জাটকার মতো। দাম হাঁকাচ্ছেন কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, “শহরে ইলিশ নেই। সাতদিন আগে যে মাছগুলো সংগ্রহ করে ফ্রিজে রেখেছিলাম, সেগুলো বৈশাখ উপলক্ষে বিক্রি করছি। তাই দাম একটু বেশি।” শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছড়া ফিশারিঘাট—পাইকারি মাছের বড় বাজার। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড়জোর ৫০-৬০টি ইলিশ রয়েছে, যার ওজন ৩০০-৪০০ গ্রাম। কেজিপ্রতি দাম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ঘাটের পাশে সারি সারি ট্রলার নোঙর করা। এফবি সুলতানা ট্রলারের জেলে আমির হামজা (৫০) জানালেন, “জ্বালানির সংকটে আমাদের ট্রলার গত ১৫ দিন ধরে ঘাটে আটকে আছে। ১৫ এপ্রিল থেকে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরায় ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। নিষেধাজ্ঞার আগে আর সাগরে যাওয়া সম্ভব নয়, তাই বাজারে মাছের সংকট আরও বাড়বে।” আরেক জেলে আবুল কালাম বলেন, “পাঁচ দিন আগে সাগরে মাছ ধরে গতকাল শনিবার আমরা ঘাটে ফিরেছি।
এসময় আমরা ১২ মণ চাপিলা, পোপা, মাইট্যা, গুইজ্যা আর মাত্র ২৯টি ইলিশ পেয়েছি। গত বছর একই সময়ে আমরা পাঁচ হাজারের বেশি ইলিশ ধরেছিলাম। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে ইলিশের দেখা মেলা ভার।” ফিশারিঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী ও কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, “যে ইলিশ ধরা পড়ছে, তা আকারে ছোট। দিনে এক মণও জোগান দেওয়া যাচ্ছে না।” জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে জেলায় ইলিশ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫২৩ মেট্রিক টন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের পরিবেশ বদলে গেছে। বৃষ্টির ধরনে পরিবর্তন এবং ঘন ঘন নিম্নচাপের কারণে ইলিশের উৎপাদন কমছে।” কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২৫০টি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। জ্বালানির সংকটে ৯৫ শতাংশ ট্রলার তিন সপ্তাহ ধরে ঘাটে পড়ে আছে। যে অল্প কিছু ট্রলার সাগরে যাচ্ছে, সেগুলোর জালেও খুব কম ইলিশ ধরা পড়ছে।”।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লক্ষ ডলারের বেশি: ভারতীয় কর্মীদের জন্য কি চরম বিপদ?